বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত © সংগৃহীত
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের কৃতিত্ব নয়; এটি দীর্ঘদিনের স্বৈরাচার, গণতন্ত্রহীনতা, গুম-খুন ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধের ফল।
বৃহস্পতিবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১/১১–এর পর থেকেই দেশের মানুষ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে এসেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে রাজনৈতিক দল, ছাত্র-জনতা ও সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলন পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের দমন-পীড়ন ও প্রতিহিংসার রাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে সকালে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি ২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিশ্বকে বার্তা দিয়েছে যে বাংলাদেশের মানুষ কোনো ধরনের স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ মেনে নেয় না। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও জানান, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার ‘জুলাই অধিদপ্তর’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খাঁন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ, পৌর প্রশাসক রুমানা আক্তার, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।