জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। © সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ ভবনের মসজিদ ও বিভিন্ন কক্ষের ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি দলের হুইপ জি কে গউছ। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করতে গিয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও তাঁর বাসভবনের করুণ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘কষ্টের কথা কাকে বলব, আমি আমার নিজের ঘরে ঘুমাইতে গেলে ছাদের এখানে বাটি দিয়ে রাখি। পানি পড়ে আমার নিজের বাড়িতেও।’
সোমবার (১৩ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মসজিদের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ার বিষয়টি সংসদের নজরে আনেন হুইপ গউছ। তারই প্রেক্ষিতে ডেপুটি স্পিকার এ কথা বলেন।
হুইপ গউস ডেপুটি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে এ মহান সংসদে নাচ, গান ও কবিতা আবৃত্তিসহ নানা ঘটনা ঘটেছে। অথচ যে ফোরামে সংসদ সদস্যরা অধিবেশন করছেন- ঠিক তার ওপরের তলাতেই রয়েছে মসজিদ। সেখানে অসংখ্য মুসলিম সংসদ সদস্য একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো- বর্তমানে মসজিদের সামনে সারিবদ্ধভাবে বালতি দিয়ে রাখা হয়েছে, কারণ ছাদ ফেটে অনবরত বৃষ্টির পানি ভেতরে প্রবেশ করছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে এ অধিবেশনে আমরা ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট অনুমোদন করেছি, সেখানে মসজিদের এ করুণ দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে ছাদ দিয়ে পানি পড়া বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান গউছ।
তার এ বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার দুঃখ প্রকাশ করে রসিকতার ছলে বলেন, আমরাও জেনেছি সংসদের ছাদ থেকে পানি পড়ে। তবে কষ্টের কথা কাকে বলব, আমি আমার নিজের ঘরে ঘুমাতে গেলে সেখানেও ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে- সংসদ ভবনের সরকারি বাড়িতে। ফলে আমাকেও মেঝেতে বাটি রেখে সেই পানি আটকাতে হয়।
ডেপুটি স্পিকারের এ মন্তব্যে সংসদ কক্ষে একপর্যায়ে হালকা হাসির রোল পড়ে যায়।
এরপর চিফ হুইপ জানান, সংসদ ভবনে পানি পড়ার বিষয়টি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। ভবনের যতগুলো জায়গা থেকে পানি পড়ার সমস্যা রয়েছে, তা মেরামতের কাজ শুরু করেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চিফ হুইপের বক্তব্যের পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, চিফ হুইপ ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। তারা ভবনের ছাদ সংস্কারে সর্বাত্মক বন্দোবস্ত গ্রহণ করছেন এবং খুব দ্রুতই এর স্থায়ী প্রতিকার হয়ে যাবে।