নবম জাতীয় পে স্কেল © টিডিসি সম্পাদিত
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ শিগগিরই মন্ত্রিসভায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সচিব কমিটি। সেখানে প্রয়োজনীয় ‘সংযোজন-বিয়োজন’ শেষে অনুমোদনের পর নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট জারি করা হবে। এতে বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করছে কমিটি। এ ক্ষেত্রে পৃথক সময়ে চালানো দুটি জরিপ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানা গেছে।
গত সোমবার (৬ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিতে ইনক্রিমেন্ট হার সমান থাকছে না। বেতন কাঠামোর সব গ্রেডেই বর্তমানে গড়ে ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। নতুন বেতনকাঠামোর খসড়ায় ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতনের ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩.৫ ও দ্বিতীয় গ্রেডে ২.৭৫ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ রয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্টের হার আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে। এ ছাড়া পে স্কেলে মূল বেতন শতভাগ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়বে না। নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়বে।
এসব সুপারিশের পেছনে দুটি জরিপ বড় ভূমিকা রয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, একটি জরিপে অংশ নেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক ও ৩ হাজার ৫১৩ প্রতিষ্ঠানপ্রধান। এতে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান বেতন বৃদ্ধির পদ্ধতির পক্ষে। এর বিপরীতে ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে রয়েছেন।
আর ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণ করার পক্ষে। ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বেতন বেশি বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। অপর একটি জরিপেও বেতনকাঠামো নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি সামনে এসেছে। অনলাইন জরিপটিতে অংশ নেন ৪ হাজার ১৪৩ জন।
আরও পড়ুন: দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের ১৯ জেলায় ভারী বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা
এর মধ্যে ১ দশমিক ১৮ শতাংশের মতে, বর্তমান বেতন ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট। তবে প্রায় ৯৯ শতাংশ বলেছেন, এই বেতনে সংসার চালানো কঠিন। আর অংশগ্রহণকারীদের ৮৭ শতাংশ বেতন বাড়ানোর পক্ষে। বেতন ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছেন ১০ শতাংশ। এর মধ্যে অনেকেই ১৮তম থেকে ২০ তম গ্রেড পুনর্গঠন এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান কমানো প্রয়োজন বলে মনে করেন।
জানা গেছে, এসব কিছু বিবেচনায় নিয়ে সচিব কমিটির আরেক বৈঠক শেষে এ সংক্রান্ত সুপারিশ দুই সপ্তাহ পর মন্ত্রিসভায় উঠবে। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনার মাধ্যমে সরকারের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটি আগামী সপ্তাহে ফের সভায় বসবে। এরপর সুপারিশ মন্ত্রিসভায় উঠলে অনুমোদনের পর পে স্কেলের গেজেট জারি হবে।