পে-স্কেল © ফাইল ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল কাঙ্ক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল আজ বুধবার থেকে কার্যকর হচ্ছে। দুই ধাপে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এ পে-স্কেল আজ থেকে কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতন মিলতে পারে আগামী সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাস থেকে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তব্যে ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দেন। তবে এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, ‘আমরা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিচ্ছি। গত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, অথচ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’
এদিকে নতুন পে-স্কেলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে আগামী সপ্তাহের শুরুতে সভা ডেকেছে পে-স্কেলের সুপারিশ পুনর্মূল্যায়নে গঠিত সচিব কমিটি। সভায় তিন কমিশনের তিন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এরপর সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সচিব কমিটির সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন শেষে গেজেট জারি করা হবে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সচিব কমিটি তিন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে একটি খসড়া নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে। এ সুপারিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার পূর্বে আগামী সপ্তাহে আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে তিনটি পৃথক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।’
দুই দাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন
শুরুতে তিন ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানানো হলেও এবার সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে পে-স্কেলের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত সচিব কমিটি। দুই ধাপে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রথম পর্যায়ে এ জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হতে পারে।
জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারক পর্যায়ে একাধিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারি হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি বা আইবিএএসপ্লাসে জটিলতা সৃষ্টি না করতে একবারেই মূল বেতন কার্যকর করা যৌক্তিক মনে করছে অর্থ বিভাগ। সে কারণে সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি দুই ধাপে সম্পন্ন করতে চায় কমিটি। এক্ষেত্রে প্রথম ধাপে অর্থাৎ চলতি অর্থবছর থেকে শতভাগ মূল বেতন বৃদ্ধি করা হতে পারে। আর দ্বিতীয় ধাপে অর্থাৎ আগামী ২০২৭-২০২৮ অর্থবছরে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি করা হতে পারে।
গেজেট জুলাইয়ের মাঝামাঝি
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দুই ধাপে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর জারি করা হবে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করতে পারে অর্থ মন্ত্রণালয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘জুলাইয়ের মাঝামাঝি পে-স্কেলের গেজেট জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাঝামাঝি না হলে এর পরের সপ্তাহে গেজেট জারি করা হবে।’