তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

০৭ মে ২০২৬, ০৮:২৮ AM
বাংলাদেশ ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী © টিডিসি ফটো

তিস্তা নদীর ‘ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ বাস্তবায়নে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুই দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, পানিসম্পদ ও জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।

 বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ে বাংলাদেশ ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র আমন্ত্রণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৫ থেকে ৭ মে পর্যন্ত চীন সফর করছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম চীন সফর।

বৈঠকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা একে অপরের মূল স্বার্থ রক্ষা এবং উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি নীতি’ অনুসরণ এবং দুই দেশের ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ আরও জোরদার করার বিষয়েও একমত হন।

যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আবারও ‘এক চীন নীতি’র প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে। বাংলাদেশ মনে করে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকারই পুরো চীনের একমাত্র বৈধ সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’র যেকোনো ধরনের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে এবং চীনের পুনর্মিলন উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে।

অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতা অনুযায়ী উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়ার অধিকারকেও সম্মান জানিয়েছে দেশটি।

দুই দেশ ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, অবকাঠামো, শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্য খাতে যৌথ কাজ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ তিস্তা নদীর ‘ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ বাস্তবায়নে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন চেয়েছে। এ প্রকল্পকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এছাড়া বাংলাদেশ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘মানবজাতির জন্য অভিন্ন ভবিষ্যৎ’ গড়ার ধারণা এবং তার উত্থাপিত বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন দুই দেশের মন্ত্রীরা। তারা জাতিসংঘ সনদ ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশ্ব শান্তি বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ও চীন। দুই দেশ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং বেসামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে চীন মধ্যস্থতা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার যাতে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে পারে, সে লক্ষ্যেও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং।

ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ
  • ২২ জুন ২০২৬
মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলাতেই ডিসি সারওয়ারকে প্রত্যাহার: শিবির…
  • ২২ জুন ২০২৬
স্কুল ছুটি শেষে ফিরছিল বাড়ি, প্রাণ গেল পিকআপের ধাক্কায়
  • ২২ জুন ২০২৬
আলিম পরীক্ষা নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশনা বোর্ডের
  • ২২ জুন ২০২৬
সড়ক দুর্ঘটনায় রাবিপ্রবি শিক্ষার্থী আহত
  • ২২ জুন ২০২৬
পদত্যাগ করলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বদিউজ্জামান
  • ২২ জুন ২০২৬