আব্দুল হান্নান মাসউদ ও শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন © সংগৃহীত
নদীভাঙনকবলিত এলাকার শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় সংসদের সবচেয়ে তরুণ সংসদ সদস্য নোয়াখালী-৬ আসন থেকে নির্বাচিত আব্দুল হান্নান মাসউদ। রবিবার (১৫ মার্চ) সংসদের অধিবেশনে তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন।
আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, হাতিয়াসহ দেশের ব্যাপক নদীভাঙনের কারণে অনেক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে কিনা—সেই বিষয়ে সরকারের কোনো তালিকা বা উদ্যোগ আছে কিনা। শুধু নোয়াখালী নয়, দেশের যেসব এলাকায় নদীভাঙন ঘটে, সেসব এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের জন্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা কী—তাও জানতে চান তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘হরিণের দেশ’ বা ‘নিঝুম দ্বীপ’ হিসেবে পরিচিত এলাকাটিতে একটি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নেই। পাশাপাশি যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, সেগুলোতেও শিক্ষকসংকট প্রকট। এ সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের কোনো উদ্যোগ আছে কি না, তা জানতে চান সংসদ সদস্য।
জবাবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নকল প্রতিরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি নিজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। তখন নদীভাঙনের কারণে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে যেতে দেখেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় সেসব প্রতিষ্ঠান অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে নতুন পাঁচ উদ্যোগের কথা বললেন শিক্ষামন্ত্রী
মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য যদি লিখিতভাবে বিষয়গুলো মন্ত্রণালয়কে জানান, তাহলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিরূপণসহ প্রয়োজনে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি ওই এলাকায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবং সার্বিক অবস্থা নিয়ে জরিপ পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা কোনো দলীয় বিষয় নয়; এটি সবার মৌলিক অধিকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও শিক্ষাকে দলীয়করণের বাইরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না।