গাইবান্ধা জেলার উপজেলাসমূহের প্রশাসনিক ম্যাপ © টিডিসি সম্পাদিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা জেলায় ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়নে উদ্বেগজনক চিত্র বেরিয়ে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল্যায়নে জেলার মোট ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৭৯টি কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা শতকরা হিসাবে ৫৬ শতাংশেরও বেশি। এর মধ্যে ৭৯টি কেন্দ্র ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
৫টি সংসদীয় আসন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) ও গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ঝুঁকির মাত্রা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। গাইবান্ধা-৩ আসনের ১৪৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে গোবিন্দগঞ্জের ১৪২টির মধ্যে ১১০টিই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র ফুলছড়ি উপজেলায়, যেখানে ৪৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৭টিই ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’।
এছাড়াও গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের ১২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৪১টি কেন্দ্র। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১১টি। গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের ১১৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৫১টি কেন্দ্র। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১১টি এবং গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি–সাঘাটা) আসনের ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৯০টি। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৩৫টি।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রমতে, পূর্বের নির্বাচনী সহিংসতার ইতিহাস, বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই এলাকাগুলোতে উত্তপ্ত রাজনৈতিক বক্তব্য ও সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কার তথ্য পাওয়া যায়।
এই বিশাল পরিসরের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় গাইবান্ধা জেলায় ব্যাপক ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ১১০০ সেনা সদস্য। তাদের পাশাপাশি দায়িত্বে থাকবেন ৪০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবে ২ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য।
প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে র্যাব টিমসহ মোট ১৪টি র্যাব টিম সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি সদস্যও প্রস্তুত রাখা হবে। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে জরুরি সেবা ও দ্রুত ফোর্স পাঠানোর জন্য সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের বরাতে জানা যায়, প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ২ জন করে পুলিশ সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৩ জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ৬ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী আনসারসহ মোট ১০ জন আনসার সদস্য এবং ৩ জন করে অস্ত্রধারী আনসার মোতায়েন থাকবে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে এসব বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
প্রশাসনের দাবি, নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গাইবান্ধাজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়লেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই বিপুল সংখ্যক ভোটার ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ১০১টি ভোটকক্ষে ভোট দিতে যাবেন।