অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে বই প্রকাশ

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২৩ PM
অন্তর্বর্তী সরকারের রিফর্ম বুক

অন্তর্বর্তী সরকারের রিফর্ম বুক © সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গৃহীত প্রধান সংস্কার উদ্যোগগুলো নিয়ে ‘রিফর্ম বুক’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছে সরকার। বইটিতে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে নেওয়া সংস্কারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে ‘আর নয়’ স্লোগানে রাজপথে নামা তরুণ-তরুণীসহ লাখো মানুষের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রায় ১৬ বছরের দমনমূলক শাসন থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে পায়। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ঘটে এবং গভীর সংকটকালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

প্রেস উইং জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশ চরম অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও গণতান্ত্রিক বিপর্যয়ের মধ্যে ছিল। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অপশাসনে রাষ্ট্রের কাঠামো ভেঙে পড়ে। সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শত শত বিলিয়ন ডলার পাচার হয়, খেলাপি ঋণে বিপর্যস্ত হয় ব্যাংকিং খাত। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থের অধীন হয়ে পড়ে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিচার বিভাগে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়। ভোটারবিহীন নির্বাচন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হ্রাস এবং নাগরিক সমাজের কার্যক্রম স্তব্ধ হয়ে পড়ে।

এ প্রেক্ষাপটে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে কাজ করে অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করে বলে জানানো হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। 

কমিশনগুলোর সুপারিশ ও সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে মেয়াদকালের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার গ্রহণ করা হয়।

প্রেস উইংয়ের তথ্যমতে, দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ মাসে সরকার প্রায় ১৩০টি আইন (নতুন ও সংশোধিত) প্রণয়ন করেছে এবং ৬শটিরও বেশি নির্বাহী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ সংস্কার ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা কেবল বক্তব্যনির্ভর নয়, বাস্তব ও দৃশ্যমান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার ৪শ পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া গেছে। চীনের সঙ্গে সহযোগিতায় ঋণের মেয়াদ পুনর্নির্ধারণ, স্বাস্থ্য খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যৌথ জলতথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে আনা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

জবাবদিহি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রেস উইং জানায়, পতিত সরকারের আমলের শতাধিক রাজনীতিক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে। জব্দ বা জব্দের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বিলিয়ন ডলারের সম্পদ।

ব্যাংকিং খাতে তদারকি জোরদার, ৪২টি মন্ত্রণালয়ে ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরাতে তদন্তের মুখে এক হাজার ২শরও বেশি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে।

বিশেষ কমিশনের মাধ্যমে হাজারো ভুক্তভোগী ও পরিবারের সাক্ষ্য গ্রহণ করে সত্য উদ্ঘাটন ও জবাবদিহির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের কাঠামো পরিবর্তন করে এর নাম রাখা হয়েছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সব আদালতকে সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক অধীনে আনা হয়েছে। 

রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, যোগ্যতাভিত্তিক পদ্ধতিতে বিচারপতি নিয়োগ চালু হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করা হয়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া পূর্বে বন্ধ থাকা গণমাধ্যম পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সাবেক সরকারের ঘনিষ্ঠ কোনো গণমাধ্যমও বন্ধ করা হয়নি বলে জানানো হয়।

এ ছাড়া সাত মাসব্যাপী টেলিভিশনে সম্প্রচারিত রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়, যা সাংবিধানিক সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে গণভোটের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এসব সংস্কার নতুন শাসনব্যবস্থার পথে প্রথম ধাপ। তবে ১৬ বছরের ক্ষতি ১৮ মাসে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও বাংলাদেশ কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে দৃঢ়ভাবে সরে এসেছে। ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে রাজপথে যে সাহসিকতা দেখা গেছে, সেই চেতনাই গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথনির্দেশক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করা হয়।

১৭ বছরের সংগ্রাম, দেশনেত্রীর মৃত্যুর দিনে বহিস্কার, অবশেষে …
  • ২৪ মার্চ ২০২৬
গণহত্যা দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন তারেক রহমান 
  • ২৪ মার্চ ২০২৬
স্লোভেনিয়ার সেরা নয় স্কলারশিপ সম্পর্কে জেনে রাখুন
  • ২৪ মার্চ ২০২৬
 বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা পাবে ‘জুলাই বিপ্লবে’ …
  • ২৪ মার্চ ২০২৬
ডাক্তারদের কাছে ‘জাহান্নাম’, আর গ্রামীণ স্বাস্থ্যকর্মীরা জে…
  • ২৪ মার্চ ২০২৬
মাদক নিয়ে পোস্ট দেওয়ায় যুবককে তুলে নিয়ে হ/ত্যা, অভিযোগ ইউপি…
  • ২৪ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence