ভোটের ছুটিতে কি ঘুরতে যেতে মানা?

৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৯ AM , আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩১ AM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

নির্বাচনের দিন এমনিতেই সাধারণ ছুটি থাকে। আগের দিন অর্থাৎ ১১ই ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আর এর পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এবার নির্বাচন ঘিরে টানা চার দিন ছুটি থাকছে। এছাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ১০ই ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকায় শুক্র ও শনিবার বাদেই টানা তিন দিন ছুটি পাবেন তারা।

এমন প্রেক্ষাপটে টানা ছুটির আমেজ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না এমন আলোচনা যেমন রয়েছে, তেমনি এই ছুটিতে মানুষের চলাচল কিংবা ভ্রমণের ক্ষেত্রে নির্বাচনী আইনে কী বিধিনিষেধ বা বাধ্যবাধকতা রয়েছে সেটিও সামনে আসছে।

টানা ছুটির প্রভাব ভোটার উপস্থিতিতেও পড়তে পারে বলে মনে করেন নির্বাচন বিশ্লেষকদের অনেকে।

নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা জেসমিন টুলি বলছেন, "মানুষ এই সময়টা হয়তো ব্যক্তিগত কাজেও ব্যবহার করতে পারেন।"

নির্বাচন ঘিরে যে চারদিনের টানা ছুটি মিলছে সে সময় কি ঘোরাঘুরির মতো যেকোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব? এক্ষেত্রে নির্বাচনী আইনে কী কী বিধি নিষেধ রয়েছে?

নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোট নাগরিক অধিকার বলা হলেও বাংলাদেশে আইন অনুযায়ী ভোট দেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক নয়। তাদের মতে, একজন ভোটার চাইলে ভোট নাও দিতে পারেন।

"আপনি ভোট দিন- এই পর্যন্তই বলার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ভোট দিতেই হবে এটা কেউ বলতে পারে না," বিবিসি বাংলাকে বলেন জেসমিন টুলি।

তবে ভোট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের চলাচলে নানা বিধিনিষেধ ও নির্দেশনাগুলো এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া নির্বাচন ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ইস্যু থাকলে নির্দিষ্ট এলাকা বা ট্যুরিস্ট স্পটে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ও অতীতে দেখা গেছে।

যদিও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নির্দিষ্ট কোনো এলাকার ক্ষেত্রে এমন নির্দেশনা এখনো দেয়নি নির্বাচন কমিশন। এদিকে নির্বাচনের ছুটিতে কেবল ভোটের দিনটি ছাড়া বাকি দিনগুলোতে স্বাভাবিক বুকিং চালু রাখার কথা জানিয়েছেন ট্যুর অপারেটররা।

আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নানা নির্দেশনা থাকলেও চারদিনের এই ছুটিতে একজন ভোটার বা ব্যক্তি কী করবেন সেখানে হস্তক্ষেপের সুযোগ তাদের নেই।

ভোটের ছুটিতে যেসব বিধিনিষেধ
নির্বাচনের আগে ও পরে চারদিনের ছুটিতে ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে যান চলাচল। কারণ নির্বাচন ঘিরে যানবাহন চলাচলে নানা বিধিনিষেধ রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগের রাত থেকেই দূরপাল্লা কিংবা স্বল্পপাল্লার যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ থাকে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটের দিন ইসির অনুমোদন ছাড়া কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। এর ফলে আন্তঃজেলা বাস, ভাড়া করা গাড়ি কিংবা ব্যক্তিগত যানবাহনে ভ্রমণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে আগামী ১০ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

এছাড়া পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে ১১ই ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন ১২ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত।

তবে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক অথবা জরুরি কোনো কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং মোটরসাইকেল- নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং কর্মকতার অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে। যানবাহনের পাশাপাশি এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ব্যক্তি চলাচলের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা জেসমিন টুলি বলছেন, নিরাপত্তার কারণে ভোটের দিন এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাচলে কিছু নির্দেশনা থাকে তবে সাধারণ মানুষের চলাচলে বাঁধা নেই বলেই মনে করেন।

তিনি বলছেন, "দেশের নাগরিক পুরো দেশেই তার ঘুরতে কোনো অনুমতি লাগার কথা না। তবে ইলেকশনে অনেক সময় যে এলাকায় ভোট হচ্ছে ওই এলাকায় যাতে বহিরাগত না আসে নিরাপত্তার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত থাকে।"

ভোটের দিন ঢাকার কোনো ভোটার যদি ঘুরতে কক্সবাজার চলে যায় তাহলে তাকে খোঁজ করা বা জবাবদিহি করার সুযোগ আছে কি না?

এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, "এটা তো তার ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ, এরকম কোনো কিছু নাই।"

ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন সেজন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে, বলেন তিনি।

পর্যটন কেন্দ্রগুলো কী খোলা থাকবে?
সাধারণত ছুটি পেলেই নানা পরিকল্পনা করেন সাধারণ মানুষ। অনেকে প্রয়োজনীয় কাজ সারেন, আবার কেউ কেউ বেরিয়ে পড়েন ঘুরতে। কিন্তু নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তাসহ নানা বিষয়ে বাড়তি তৎপরতা থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

এছাড়া বিশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে অনেক এলাকায় বহিরাগত প্রবেশ বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ারও অতীত নজির রয়েছে। ভ্রমণে আইনগত বাধা না থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়তি চেকপোস্ট, হোটেলে অতিথিদের পরিচয় ও ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জবাবদিহি এমন বিষয়গুলোও আগের নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন বা টোয়াব এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাফিউজ্জামান বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের দিনে পর্যটকদের জন্য কোনো বুকিং বা প্যাকেজ রাখছেন না তারা।

"নির্বাচনের আগের রাত থেকেই কোনো প্রকার প্যাকেজ, কোনো প্রকার কর্মসূচি আমরা গ্রহণ করি নাই। তবে পরের দিন থেকেই দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে সব ক্ষেত্রেই বিভিন্ন প্যাকেজ থাকবে," বলেন তিনি। [সূত্র: বিবিসি বাংলা]

প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ফেনীর ৬২ প্রাথমিক বিদ্যালয়, দায়িত্…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, এসআইসহ আহত ৪
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিদ্যালয়ে আনা শিক্ষার্থীর আইফোন ভাঙলেন শিক্ষক
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নারী খেলোয়াড়দের উত্ত্যক্ত, প্রতিবাদ করার হামলা— যুবক আটক
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘তুই ফ্যাসিস্ট, ১৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দে, না হয় এলাকা ছাড়’
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টঙ্গীতে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় স্কুলছাত্র নিহত
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9