নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান অনুষ্ঠান © সংগৃহীত
পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখায় অফিস সহায়ক পদে সম্প্রতি ১৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় বেতন স্কেলের ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক (পূর্বের এমএলএসএস পদ এবং যোগ্যতা ৮ম শ্রেণি পাশ ছিল) পদে এই নিয়োগের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল মাত্র এসএসসি পাস। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নিয়োগপ্রাপ্তদের ১৭ জনই বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএসহ মাস্টার্স ও অনার্স ডিগ্রিধারী।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) তাদের যোগদান উপলক্ষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে চাকরি পাওয়া ১৮ তরুণের যোগদানপত্র গ্রহণসহ তাদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।
জানা গেছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে পাবনা সদর উপজেলার দিলালপুরের ওয়ালিয়েল রাদ দিহান আমেরিকান ইন্টান্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ট্রিপল-ই-তে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, চাটমোহরের সুজন মিয়া পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা, ঈশ্বরদীর উজ্জ্বল হোসেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করা, সদর উপজেলার রাকিবুল পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স পাশ, একই উপজেলার শাখারীপাড়ার আলতাব হোসেন পাবনা বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্লানিংয়ে মাস্টার্স পাশ, বেড়া উপজেলার ইয়া খাতুন ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে কেমিস্ট্রিতে মাস্টার্স পাশ, বেড়া উপজেলার রাকিব হোসেন ঢাকার তেজগাঁও কলেজ থেকে মার্কেটিংয়ে মাস্টার্সসহ ১৭ জনই উচ্চশিক্ষিত। ১৮ জনের মধ্যে একজন মাত্র এইচএসসি পাস।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, অফিস সহায়ক পদে ১৮টি পদে গত বছরের ২৫ অক্টোবর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। প্রায় ৮ হাজার আবেদনকারীর মধ্য পরীক্ষায় উপস্থিত হন প্রায় ৪ হাজার। গত ১৯ জুন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৪৪ জন এবং পরদিন ২০ জুন মৌখিক পরীক্ষায় ১৮ জন উত্তীর্ণ হন। কোনো ধরনের তদবির বা চাপ ও অর্থ লেনদেন ছাড়াই শতভাগ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে ১৮ জন প্রার্থী নির্বাচিত হন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া আমার কর্মজীবনের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
এ সময় নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব কর্মকাণ্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া নিয়োগপ্রাপ্ত তরুণরাও কোনো তদবির বা অর্থ লেনদেন ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইয়াসমিন মনিরা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার, সিনিয়র সাংবাদিক হাবিবুর রহমান স্বপন, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি একেএম মুসা প্রমুখ বক্তব্য দেন।
এ সময় রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।