ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো © সংগৃহীত
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার একদিন পরই পর্তুগালের নতুন স্কোয়াড প্রকাশ করেছে উয়েফা। যেখানে ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে তারকা ফরোয়ার্ড রাফায়েল লেয়াওকে রোনালদোর পরিচিত ৭ নম্বর জার্সি দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইতালিয়ান সাংবাদিক ফেব্রিজিও রোমানো।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে রোমানো জানান, পর্তুগালের হয়ে ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোর আইকনিক ৭ নম্বর জার্সি পরবেন লেয়াও। তিনি আরও জানান, রোনালদো ক্যাম্প ছাড়ায় আগামী দুই ম্যাচে এই জার্সিই থাকবে লেয়াওর গায়ে।
এর আগে বুধবার হঠাৎ করেই পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান রোনালদো। কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে পর্তুগাল জয় পেলেও রোনালদোকে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়।
জেসুস জানিয়েছিলেন, রবিবার নরওয়ের বিপক্ষে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে থাকা রোনালদো বৃহস্পতিবার ডেনমার্কের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচেও শুরু থেকে খেলবেন না।
তবে এর আগে জেসুস জোর দিয়ে বলেছিলেন, রোনালদোর সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই। একইসঙ্গে ৭২ বছর বয়সী এই কোচ স্বীকার করেছিলেন, নরওয়ের বিপক্ষে নেশন্স লিগের জয়ে বেঞ্চে বসে থাকতে হওয়ায় তার অধিনায়ক হতাশ হয়েছিলেন।
এদিকে ক্যাম্প ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান রোনালদো। ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, “জাতীয় দলের ম্যানেজারের সংবাদ সম্মেলনের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পর আমি জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি আরও লেখেন, “উপযুক্ত সময়ে আমি পুরো পর্তুগিজ জনগণকে জাতীয় দল ছাড়ার কারণ সম্পর্কে সত্যটা জানাব। এই দলের প্রতি আমি সবসময়ই নিবেদিত ছিলাম।”
এরপর রোনালদো বলেন, “এখন পর্তুগাল এবং আমার সব সতীর্থকে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই শুভকামনা জানানোর সময়।”
“রোনালদো ক্যাম্প ছেড়েছেন”, এফপিএফ ও রোনালদো নিজে বিষয়টি নিশ্চিত করার আগে জেসুস প্রথমে তা অস্বীকার করেছিলেন।
নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের পর রোনালদোর সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যাওয়া এবং দলের সঙ্গে জয় উদ্যাপন না করার বিষয়েও কথা বলেন জেসুস।
এ নিয়ে জেসুস বলেছিলেন, “যেকোনো খেলোয়াড় আর আমিও একসময় খেলোয়াড় ছিলাম, যখন ২০ বা ৩০ মিনিট ধরে গা গরম করার পরও মাঠে নামার সুযোগ পায় না, তখন কেউই খুশি থাকে না।”
পর্তুগালের কোচ আরও জানান, ম্যাচের আগে তিনি রোনালদোকে বলেছিলেন যে তাকে মূল একাদশে রাখা হবে না। তবে ম্যাচের শেষ দিকে তাকে মাঠে নামানো হতে পারে।
“এরপর কোচ হিসেবে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাকে মাঠে নামাব না। এটা নিয়ে এত হইচই করার কিছু নেই,” জোর দিয়ে বলেন জেসুস।
সাবেক বেনফিকা কোচ আরও ব্যাখ্যা করেন, মঙ্গলবার রোনালদো অনুশীলন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের এমন দাবি সঠিক নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক ‘মোবিলিটি’ ও ‘স্ট্রেন্থেনিং’ অনুশীলনের জন্য রোনালদোকে আলাদাভাবে কিছু ব্যায়াম করতে হয়েছিল।
এদিকে নিজের অবসর পরিকল্পনা নিয়ে গত আগস্টে মন্তব্য করে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছিলেন রোনালদো। তিনি জানিয়েছিলেন, আসন্ন বছরটি সম্ভবত তার ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ বছর হতে পারে।
লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ভোগকে রোনালদো বলেছিলেন, “সম্ভবত এটাই আমার ফুটবলের শেষ বছর এবং আমি একটি দুর্দান্ত উত্তরাধিকার রেখে যেতে চাই।”
দুই দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৯৭৬ গোল করেছেন রোনালদো। চলতি মৌসুমে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-নাসরের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি। একই সঙ্গে ক্যারিয়ারের এক হাজার গোলের মাইলফলকের আরও কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য থাকবে পর্তুগিজ এই মহাতারকার।