মেসি ও এনজো ফার্নান্দেস © সংগৃহীত
আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির অবসরের ঘোষণার পর তাঁকে আবেগঘন চিঠি লিখেছেন সতীর্থ এনজো ফার্নান্দেজ। ২৫ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির সঙ্গে নিজের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন। একসময় মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিলে তাঁকে ফিরে আসার অনুরোধ করে চিঠি লিখেছিলেন এনজো। এবার মেসির অবসরের ঘোষণার পর সেই এনজোই তাঁকে লিখলেন হৃদয়ছোঁয়া বিদায়ী বার্তা।
গত এক দশকে মেসির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কীভাবে গড়ে উঠেছে, সেই স্মৃতিও চিঠিতে তুলে ধরেছেন এনজো। তিনি লিখেছেন, ‘সেদিন যখন তুমি বলেছিলে যে জাতীয় দল থেকে চলে যাচ্ছ, তখন আমি খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম। আমি তখন ছোট ছিলাম। তোমার বয়স আর আমার বয়সের হিসাব করতাম, ভাবতাম কোনো দিন তোমার সঙ্গে খেলতে পারব কি না।’
মেসি শুধু তাঁর আদর্শ খেলোয়াড় ছিলেন না, ব্যক্তিগতভাবেও তাঁকে কীভাবে আপন করে নিয়েছিলেন, সেটিও জানিয়েছেন এনজো। তিনি লিখেছেন, ‘আমি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকব, যেভাবে তুমি আমার সঙ্গে আচরণ করেছ, বিশেষ করে আমি দলে আসার পর থেকেই।’
এরপর এনজো লিখেছেন, ‘আমি আমার আদর্শের সঙ্গে একই মাঠে খেলার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এসে এমন একজন মানুষকে পেয়েছি, যিনি প্রথম মুহূর্ত থেকেই আমাকে দলের একজন হিসেবে অনুভব করিয়েছেন।’
নিজের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পাশাপাশি মেসির সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতিও তুলে ধরেছেন এনজো। তাঁর ভাষায়, ‘কী ভাগ্যবান ছিলাম, লিও। সেই ছেলেটিও কত ভাগ্যবান ছিল, যে হিসাব করত কিন্তু জানত না কোনো দিন সময়মতো পৌঁছাতে পারবে কি না। আমার সঙ্গে তুমি যেভাবে আচরণ করেছ, তার জন্য ধন্যবাদ। তুমি আমাকে যা শিখিয়েছ, তার জন্য ধন্যবাদ। আর তোমার গল্পের একটি অংশ আমার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্যও ধন্যবাদ।’
মেসিকে লেখা এনজো ফার্নান্দেজের পুরো চিঠি
‘লিও, সেদিন যখন তুমি বলেছিলে যে জাতীয় দল থেকে চলে যাচ্ছ, তখন আমি খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম।
আমি তখন ছোট ছিলাম। তোমার বয়স আর আমার বয়সের হিসাব করতাম, ভাবতাম কোনো দিন তোমার সঙ্গে খেলতে পারব কি না। বিষয়টি হয়তো বোকামির মতো মনে হতে পারে, কিন্তু আমি সত্যিই এমনটা করতাম। ভাবতাম, তোমার হাতে আর কত বছর আছে, প্রথম দলে জায়গা পেতে আমার আর কত বছর লাগবে। আর স্বপ্ন দেখতাম, অন্তত একবার হলেও যেন আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে আমরা একই সময়ে মাঠে থাকতে পারি। সৌভাগ্যক্রমে তুমি ফিরে এসেছিলে।
আর জীবন সেই ছোট্ট ছেলেটি যা কল্পনা করতে পেরেছিল, তার চেয়েও অনেক সুন্দর হয়ে উঠেছিল। আমি শুধু তোমার সঙ্গে খেলতেই পারিনি, আমরা একসঙ্গে জাতীয় দলের ক্যাম্পে থেকেছি, একই ড্রেসিংরুম ভাগ করেছি, কথা বলেছি, একে অন্যকে জড়িয়ে ধরেছি, কঠিন সময় পার করেছি, অসাধারণ মুহূর্ত উপভোগ করেছি এবং শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি।
তবে সবচেয়ে বেশি আমি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকব, তুমি আমার সঙ্গে যেভাবে আচরণ করেছ তার জন্য। বিশেষ করে আমি দলে আসার পর থেকেই। আমি আমার আদর্শের সঙ্গে একই মাঠে খেলার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এসে এমন একজন মানুষকে পেয়েছি, যিনি প্রথম মুহূর্ত থেকেই আমাকে দলের একজন হিসেবে অনুভব করিয়েছেন। তোমার সবসময়ই আমার জন্য কোনো না কোনো কথা, পরামর্শ, আলিঙ্গন ছিল। অথবা শুধু এমনভাবে পাশে থেকেছ, যাতে আমার যখন প্রয়োজন হয়েছে তখন নিজেকে শান্ত মনে হয়েছে। এটা আমি কখনো ভুলব না।
আজ তোমাকে ছাড়া পরের জাতীয় দলের ক্যাম্পের কথা ভাবতেই আমার কষ্ট হচ্ছে। মাঠে নামব আর তোমাকে সামনে, ১০ নম্বর জার্সিতে দেখতে পাব না—এটা ভাবা কঠিন। এত বছর ধরে তোমাকে সেখানে দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে এখন অন্যভাবে ভাবাটাই অসম্ভব মনে হচ্ছে।
কী ভাগ্যবান ছিলাম, লিও।
সেই ছেলেটিও কত ভাগ্যবান ছিল, যে হিসাব করত কিন্তু জানত না কোনো দিন সময়মতো পৌঁছাতে পারবে কি না।
আমার সঙ্গে তুমি যেভাবে আচরণ করেছ, তার জন্য ধন্যবাদ। তুমি আমাকে যা শিখিয়েছ, তার জন্য ধন্যবাদ। আর তোমার গল্পের একটি অংশ আমার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্যও ধন্যবাদ।
আমরা তোমাকে অনেক মিস করব, অধিনায়ক।’