আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি © টিডিসি ছবি
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা দলের ড্রেসিংরুমে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন ক্রীড়া সাংবাদিক রেনজো পানতিচ। তার দাবি, ওয়ার্ম-আপে কয়েকজন ফুটবলারের চোটজনিত অস্বস্তির খবর পাওয়ার পর কোচ লিওনেল স্কালোনি কৌশল বদলে রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা নেন। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ড্রেসিংরুমে কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কোচিং স্টাফের মতবিরোধও তৈরি হয়েছিল।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্পেনের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনার হারের ম্যাচটি এখনও আলোচনায় রয়েছে। এরই মধ্যে ‘নো পোদেমোস পেরদের’ অনুষ্ঠানে রেনজো পানতিচ ফাইনালের আগে ড্রেসিংরুমের ঘটনা নিয়ে নতুন দাবি করেন।
পানতিচের দাবি, ফাইনালের আগে ওয়ার্ম-আপের সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো। ওয়ার্ম-আপের সময় তারা হালকা টান অনুভব করেন বলে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে জানানো হয়।
এই তথ্য পাওয়ার পর স্কালোনি তার কৌশলে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেন। খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা এবং পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের খেলার ধরন বিবেচনায় নিয়ে তিনি পরিকল্পনা বদলান। এর আগে দুই দলের মধ্যে ফিনালিসিমা হওয়ার কথা থাকলেও সেই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য আলাদা পরিকল্পনা করেছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ।
তবে খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তির কারণে স্কালোনি মনে করেন, আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলানো সম্ভব হবে না। তাই তিনি দলকে আরও রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলানোর প্রস্তাব দেন।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই ড্রেসিংরুমে কোচিং স্টাফ ও কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয় বলে দাবি করেন পানতিচ।
তিনি বলেন, ‘তিনি এমন একটি কৌশল প্রস্তাব করেছিলেন, যেটি পুরো বিশ্বকাপে ব্যবহার করেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল রক্ষণ সামলে ম্যাচকে টাইব্রেকারে নেওয়া। স্কালোনির বিশ্বাস ছিল, আর্জেন্টিনা যদি আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের ফুটবল খেলত, তাহলে চারটি গোল হজম করতে হতো।’
পানতিচ আরও বলেন, ‘তাই তিনি রক্ষণাত্মকভাবে খেলার প্রস্তাব দেন। তখন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এ নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, ‘না, আমি একমত নই। আমাদের জয়ের জন্য খেলতে হবে।’ আরেকজন খেলোয়াড় বলেন, ‘আমাদের আক্রমণে যেতে হবে, গোল করতে হবে। এটা বিশ্বকাপের ফাইনাল, আর আক্রমণ করার মতো সামর্থ্য আমাদের আছে।’ এরপর নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত মেসির অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে সেই আলোচনা শেষ হয়।’
পানতিচ আরও বলেন, ‘আলোচনা হয়েছিল। তবে সেটি এমন একজন কোচের সঙ্গে স্বাভাবিক মতবিনিময়, যিনি নিজের খেলোয়াড়দের মতামত শুনতে প্রস্তুত ছিলেন।’
এই বক্তব্যের পর আবারও ফাইনালকে ঘিরে বিভিন্ন গুঞ্জন ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচ নিয়ে আগে থেকেই নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল।
তবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের পক্ষ থেকে কখনও ড্রেসিংরুমে কোনো বিরোধ বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
তাই পুরো বিষয়টি এখনও জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ না হওয়ায়, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে আসলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের বিতর্ক এখনও থামেনি।