ফাইনাল শেষে স্পেনের খেলোয়াড়ের সঙ্গে কেন হাতাহাতিতে জড়ালেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার?

২০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৬ AM
হাতাহাতিতে জড়ালেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার

হাতাহাতিতে জড়ালেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার © সংগৃহীত

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ১–০ গোলে হেরে বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষ করেছে আর্জেন্টিনা। তবে মাঠের পরাজয়ের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে ম্যাচ শেষে দলটির খেলোয়াড়দের আচরণ। শেষ বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও স্পেনের এরিক গার্সিয়া জড়িয়ে পড়েন। পরে আর্জেন্টিনার আচরণকে ‘লজ্জাজনক’ ও ‘জঘন্য’ বলে সমালোচনা করেছেন সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকেরা।

ফেররান তোরেসের ১০৬ মিনিটের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন।

তবে ফাইনালটি শেষ হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। ম্যাচে একাধিক ফাউল ও কঠিন চ্যালেঞ্জের পর শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্পেনের বদলি খেলোয়াড়েরা মাঠে ঢুকে শিরোপা উদ্‌যাপন শুরু করেন। এ সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনাকে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির দিকে ঘুষি ছুড়তে দেখা যায়।

রদ্রি এরপর থেমে মোলিনার দিকে এগিয়ে যান। দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে মোলিনা রদ্রির সঙ্গে বুক দিয়ে ধাক্কাধাক্কি করেন। এ সময় স্পেনের এরিক গার্সিয়া পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করেন।

এরপরই গার্সিয়ার দিকে ছুটে যান আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তিনি গার্সিয়ার গলায় হাত দেন। পারেদেসকে থামাতে এগিয়ে আসেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে পরিস্থিতি তখন আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এরপর স্পেনের ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার গাভির সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়ান পারেদেস। গাভি তখন আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদার সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে ছিলেন। পারেদেস গাভিকে মাটিতে ফেলে দেন। তার জার্সির বিব ধরে মুখের দিকে ধাক্কা দিতে দেখা যায় তাকে। পরে স্পেনের কয়েকজন খেলোয়াড় গাভিকে আড়াল করতে এগিয়ে আসেন। স্পেনের বোরহা ইগলেসিয়াসও পারেদেসের দিকে ছুটে যান।

আরও পড়ুন: বার্সেলোনার হাত ধরে ফের বিশ্বজয় স্পেনের, ১৬ বছর পর ফিরল ২০১০-এর ইতিহাস

ম্যাচে এর আগেও পারেদেস হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। এরপরও তাকে মাঠে রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শেষ বাঁশির পরের ঘটনায় পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ম্যাচে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজও ৯০ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন। স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির ওপর ফাউলের কারণে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। ফলে ম্যাচের শেষ দিকে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা মোট ছয়টি হলুদ কার্ডও দেখেন।

ফাইনালের পর আর্জেন্টিনার আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন সাবেক ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জো হার্ট। তিনি বলেন, লিওনেল মেসিই মাঠে একমাত্র খেলোয়াড় ছিলেন, যিনি শ্রেণি ও ভদ্রতা দেখিয়েছেন। মেসি স্পেনের প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে করমর্দন করেছেন। হার্টের ভাষায়, আর্জেন্টিনার আচরণ ছিল ‘জঘন্য’।

সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক গ্যারি নেভিলও আর্জেন্টিনার আচরণকে ‘লজ্জাজনক’ বলেন। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা ও লড়াইয়ের প্রশংসা করা যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি ম্যাচে তাদের আচরণ গ্রহণযোগ্য ছিল না।

সাবেক ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়েরার বলেন, পারেদেস প্রতিপক্ষের মুখের দিকে দুই–তিনবার ঘুষি ছোড়ার মতো আচরণ করেছেন। তার মতে, এমন আচরণের কোনো জায়গা নেই। হার মেনে নেওয়ারও একটি ভদ্রতা আছে। সাবেক ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ওয়েন রুনিও বলেন, আর্জেন্টিনার এমন আচরণ তাকে অবাক করেনি। এর আগেও দলটির এমন আচরণ দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফুটবল ম্যাচে হেরে গেলে সৌজন্য দেখিয়ে মাঠ ছাড়াই উচিত।

আইটিভির ধারাভাষ্যকার লি ডিক্সন আর্জেন্টিনার খেলাকে ‘অ্যান্টি-ফুটবল’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পারেদেস কীভাবে এতক্ষণ মাঠে ছিলেন। আর অ্যালি ম্যাককয়েস্ট বলেন, ম্যাচে স্পেনই একমাত্র দল ছিল যারা সত্যিকার অর্থে জিততে চেয়েছে।

স্পেনের জয়কে অবশ্য প্রাপ্য বলে মনে করেছেন সবাই। হার্ট বলেন, পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন অসাধারণ খেলেছে। কঠিন ও রক্ষণাত্মক আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও তারা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের সেরা দলই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ফাইনালে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে তার চোখে পানি দেখা যায়। স্পেনের রদ্রি যখন টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার নেন, তখন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা মেসির নামে স্লোগান দিতে থাকেন।

এই বিশ্বকাপে মেসি আটটি গোল করেছেন। নকআউট পর্বে তার নেতৃত্বে একাধিক দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে আর্জেন্টিনা। তবে শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে হেরে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয় তাদের।

ফাইনালে খেলার মাধ্যমে তিনটি পুরুষ বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা তৃতীয় খেলোয়াড় হন মেসি। এর আগে ব্রাজিলের কাফু এই কীর্তি গড়েছিলেন। তবে ৩৯ বছর বয়সী মেসি পরবর্তী বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ২০২৬ বিশ্বকাপই তার শেষ বিশ্বকাপ হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্পেন বিশ্বকাপ জেতার পর দ্রুত মাঠ ছাড়েন মেসি। বিশ্বকাপের মঞ্চে তার দীর্ঘ যাত্রার শেষটা তাই হলো পরাজয়, অশ্রু ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে।

এদিকে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন করেননি। রোমেরো ম্যাচের শুরুতে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সঙ্গে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে খেলেন। তবে ৭০ মিনিটে তাকে তুলে নেওয়া হয়।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: তদন্তে ৩০টির বেশি সুপারিশ, বা…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
আন্দোলনের সময় গুপ্তদের অনেক খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি: তারেক রহ…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষও চিনে তারা কারা: …
  • ২১ জুলাই ২০২৬
গোপালগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে পাঁচ নারীসহ আটক ১১
  • ২০ জুলাই ২০২৬
আন্দোলন শরিক নেতাদের কাছে দুঃখপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
  • ২০ জুলাই ২০২৬
অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে তিতুমীর কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্…
  • ২০ জুলাই ২০২৬