বিশ্বকাপ জয় স্পেনের © সংগৃহীত
ফুটবল বিশ্বে একটি প্রচলিত কথা আছে—‘বার্সেলোনা যখনই শক্তিশালী, স্পেন তখনই বিশ্বজয়ী।’ ২০১০ সালের সাউথ আফ্রিকা বিশ্বকাপের পর ২০২৬ সালের মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের ঐতিহাসিক জয় যেন সেই চেনা সত্যকেই আরেকবার প্রমাণ করল। ২০১০ সালের পর আবারও স্পেনের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছে কাতালান ক্লাব এফসি বার্সেলোনার একঝাঁক তারকা।
২০১০ বনাম ২০২৬: বার্সা ব্লুপ্রিন্টের পুনরাবৃত্তি
২০১০ সালে স্পেন যখন তাদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল, তখন দলটির মূল চালিকাশক্তিই ছিল বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা। সেই সোনালী স্কোয়াডে বার্সার ৮ জন তারকা ছিলেন, যারা স্পেনের টিকিটাকা ফুটবল দিয়ে বিশ্ব শাসন করেছিলেন। রক্ষণভাগে কার্লেস পুয়োল ও জেরার্ড পিকে দেয়াল তুলে দাঁড়িয়েছিলেন, আর মাঝমাঠে সার্জিও বুসকেতস, চাভি হার্নান্দেজ ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা মিলে নিয়ন্ত্রণ করতেন পুরো ম্যাচ। আক্রমণভাগে ছিলেন পেদ্রো রদ্রিগেজ এবং বেঞ্চে ব্যাক-আপ গোলরক্ষক হিসেবে ছিলেন ভিক্টর ভালদেস ও পেপে রেইনা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সেই ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ইনিয়েস্তার করা ঐতিহাসিক জয়সূচক গোলটি স্পেনকে এনে দিয়েছিল প্রথম বিশ্বকাপ।
ঠিক ১৬ বছর পর, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে লা রৌহাদের ট্রফি জয়ের গল্পেও যেন সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটল। এবারও স্পেনের মূল স্কোয়াডে ডাক পেয়েছিলেন বার্সেলোনার ঠিক ৮ জন খেলোয়াড়। শুধু তাই নয়, ফাইনালের মহামঞ্চে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নেমে সরাসরি দলের জয়ে অবদান রেখেছেন তাদের ৬ জন তারকা।
২০২৬ ফাইনালে বার্সার সেই ৬ সেনানি
ফাইনালে আর্জেন্টিনার চরম রক্ষণাত্মক নেতিবাচক কৌশল আর ‘ডার্ক আর্টস’ ভাঙার গুরুদায়িত্ব ছিল বার্সার এই কোর গ্রুপের কাঁধেই। ডিফেন্সে পাউ কুবার্সি ও এরিক গার্সিয়া স্পেনের সেই টুর্নামেন্ট-সেরা অভেদ্য রক্ষণভাগ সামলেছেন, যা পুরো বিশ্বকাপে মাত্র ১টি গোল হজম করার অল-টাইম রেকর্ড গড়েছে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে পেদ্রি ও দানি ওলমো প্রতিপক্ষের কঠিন ডিফেন্সের ফাঁক গলে আক্রমণের রসদ জুগিয়েছেন। আর আক্রমণভাগে স্পেনের মূল ভরসা হয়ে উঠেছিলেন লামিন ইয়ামাল ও ফেররান তোরেস।
ঠিক যেভাবে ২০১০ সালে বার্সার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা অতিরিক্ত সময়ে গোল করে স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন, এবারও মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেই রূপকথারই পুনরাবৃত্তি ঘটল। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে, ১০৬ মিনিটে ফেররান তোরেসের করা সেই চোখধাঁধানো একমাত্র গোলটিই স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতিয়ে সোনালী ট্রফি এনে দেয়। স্কোয়াডে থাকা বাকি দুই বার্সা তারকা গাভি এবং এরিক গার্সিয়া পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দলের শক্তি ও কৌশলগত গভীরতা বহুগুণ বাড়িয়ে রেখেছিলেন। ইতিহাস সাক্ষী, ২০১০ সালে ডাচদের ডার্ক আর্টস গুঁড়িয়ে দিয়ে ইনিয়েস্তার গোলে জিতেছিল স্পেন, আর ২০২৬-এ আর্জেন্টিনার নোংরা কৌশল ভাঙলেন ফেররান তোরেস। দুই প্রজন্মের দুই বার্সা তারকার পা ছুঁয়েই স্পেনের ফুটবল ইতিহাস বারবার পূর্ণতা পেল।