ইংল্যান্ডের কোচ টুখেল © সংগৃহীত
বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করলেও সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের আক্ষেপ এখনো ভুলতে পারেননি ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস টুখেল। ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের পর তিনি স্বীকার করেছেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই পরাজয় এমন একটি ক্ষত, যা কখনোই মুছে যাবে না। তবে পুরো টুর্নামেন্টে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি গর্বিত বলেও জানিয়েছেন।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন, ‘এটি এমন একটি ক্ষত, যা কখনো মুছবে না। তবে ১৯৬৬ সালের পর এটিই আমাদের প্রথম বিশ্বকাপ পদক, তাও আবার দেশের বাইরে। আমি আশা করি, খেলোয়াড়রা নিজেদের নিয়ে গর্বিত হবে।’
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ফাইনালে উঠতে এবং বিশ্বকাপ জিততে চেয়েছিলাম। আমরা হাজার হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করেছি, প্রচণ্ড গরমে খেলেছি, অতিরিক্ত সময়ে খেলেছি, এমনকি এক ম্যাচে ১০ জন নিয়ে লড়েছি। তবুও আমরা দেখিয়েছি, এই পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য আমাদের আছে। এসব নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত।’
ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে দলের মানসিক প্রস্তুতির পেছনে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসনের অবদানের কথাও তুলে ধরেন টুখেল। হাতে চোট থাকায় হেন্ডারসন খেলতে না পারলেও, ২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা সতীর্থদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।
টুখেল বলেন, ‘সে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছিল। এমন ম্যাচে খেলোয়াড়দের মনে যে মিশ্র অনুভূতি কাজ করে, তা সামলাতে সে আমাদের সাহায্য করেছে। সে বলেছিল, এই ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, খুব আবেগের। তার কথাই আমাদের সঠিক মানসিকতা তৈরি করতে সাহায্য করেছে।’
ফ্রান্সের বিপক্ষে বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিকও প্রশংসা করেন ইংলিশ কোচ। তবে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সাকাকে শুরু থেকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাখ্যা দেন তিনি।
টুখেল বলেন, ‘তাকে মাঠে না নামানোর সিদ্ধান্তটি কঠিন ছিল। আমরা পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু একটি বাধার কারণে পরিকল্পনা বদলে যায়। বুকায়ো আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়, আর আজ সে সেটি প্রমাণ করেছে।’
ম্যাচের বিরতিতে ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে হওয়া সংক্ষিপ্ত আলাপের কথাও জানান টুখেল। প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনে কোচ থাকার সময় এমবাপ্পের সঙ্গে কাজ করেছিলেন তিনি।
টুখেল বলেন, ‘ভালোই হয়েছে। আমরা কিছুক্ষণ কথা বলেছি। বিরতির সময় সে খুব একটা খুশি ছিল না, কারণ ম্যাচটা তখন বেশ বিশৃঙ্খল ছিল। তবে আমাদের কথোপকথন ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ।’
ফ্রান্সের বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশঁর প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন টুখেল। তিনি বলেন, ‘তিনি একজন ভদ্রলোক এবং একজন বিজয়ী। কী অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, কী দুর্দান্ত একজন কোচ। আমি এত বিনয়ী ও দয়ালু মানুষ খুব কমই দেখেছি।’
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট টুখেল। পুরো টুর্নামেন্টে দলটি ২০ গোল করেছে, আর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেই করেছে ছয় গোল।
এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমাকে কিছুটা অবাক করেছে, তবে এটিও আমাদের ইতিবাচক দিকগুলোর একটি। আজ আমরা যে পদক জিতেছি, সেটি আমাদের প্রাপ্য ছিল।’