মেসি ও বেলিংহ্যাম © সংগৃহীত
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর লিওনেল মেসির সঙ্গে মাঠে হওয়া উত্তপ্ত মুহূর্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম। তিনি স্বীকার করেছেন, ম্যাচের সময় মেসির মনোযোগ নষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। বরং তার মনে হচ্ছে, এতে মেসি আরও বেশি অনুপ্রাণিত হয়ে উঠেছিলেন।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বেলিংহ্যাম বলেন, ‘হ্যাঁ... আসলে এটা সম্ভবত আমারই ভুল ছিল। আমি চেষ্টা করেছিলাম একটু ওর মনোযোগ নষ্ট করতে, হয়তো ওকে বিভ্রান্ত করতে। তখন পর্যন্ত সবকিছুই আমাদের পক্ষে যাচ্ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এটাও জানতাম, যতক্ষণ মেসি মাঠে আছে, ততক্ষণ ম্যাচ কখনো শেষ হয়ে যায় না। তাই ভাবলাম, হয়তো ওর মনোযোগ একটু সরিয়ে দিতে পারব। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, আমি ঠিক উল্টো কাজ করেছি। মনে হয় আমি ওর ভেতরের অন্য কিছু জাগিয়ে তুলেছিলাম।’
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, ওই ঘটনার পর মেসির সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ তৈরি হয়েছে কি না।
জবাবে বেলিংহ্যাম বলেন, ‘একদমই না। সত্যি বলতে, তিনি আমার আদর্শ। আমাদের মধ্যে গুরুতর কিছুই ঘটেনি। এমন বড় ম্যাচে, বিশেষ করে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আবেগ অনেক বেশি থাকে।’
ইংল্যান্ডের এই মিডফিল্ডার জানান, ম্যাচ শেষে মেসির আচরণ তাকে মুগ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, ‘শেষ বাঁশির পর উনিই আমার কাছে এসেছিলেন। আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এটা আমার কাছে অনেক বড় বিষয় ছিল। কারণ তখন আমার মনে হচ্ছিল, হয়তো তিনি এখন আমাকে অপছন্দ করেন। কিন্তু তার আচরণই দেখিয়ে দিয়েছে, তিনি কেমন মানুষ। তার প্রতি আমার সম্মান আছে।’
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে একসময় ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজ জয়সূচক গোল করেন। তাতে ২-১ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ চলাকালে মেসি ও বেলিংহ্যামের মধ্যে কয়েক দফা কথার লড়াই হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে ম্যাচ শেষে বেলিংহ্যামের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ঘটনাটি মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ ছিল। একই সঙ্গে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, লিওনেল মেসির প্রতি তার শ্রদ্ধা আগের মতোই অটুট রয়েছে।