জুড বেলিংহ্যাম © টিডিসি সম্পাদিত
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান সেমিফাইনালেই শেষ হয়েছে। তবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারের পর জুড বেলিংহ্যামের একটি আচরণ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার ভ্যালেন্তিন বার্কোর মাথায় আঘাত করার অভিযোগে ইংল্যান্ডের এই তারকার বিরুদ্ধে ফিফা তদন্ত শুরু করলে তিনি নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়তে পারেন।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের পর মাঠে প্রতিপক্ষের উদযাপনের সময় টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা যায়, ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার ভ্যালেন্তিন বার্কোর মাথায় আঘাত করেন। আটলান্টায় ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তবে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর আলোচনা শুরু হয়েছে, ফিফা কি এই ঘটনার তদন্ত করবে? আর ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পরও কি বেলিংহ্যাম নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন?
ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর কোনো খেলোয়াড় অসদাচরণ করলে বা সহিংস আচরণে জড়ালে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা সংস্থাটির রয়েছে।
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডে বলা হয়েছে, ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরও যদি কোনো খেলোয়াড় সহিংস আচরণ, অসৌজন্যমূলক আচরণ কিংবা শারীরিক বা মৌখিক আক্রমণে জড়ান, তাহলে সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
অর্থাৎ ম্যাচ শেষ হয়ে গেলেও ফিফা চাইলে ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি ম্যাচ কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করতে পারে। আবার কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াও নিজেদের উদ্যোগে তদন্ত শুরু করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
তদন্তে যদি তারা মনে করে যে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে, তাহলে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি শৃঙ্খলাভঙ্গের মামলা শুরু করা হবে। এরপর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোড অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা বা অন্য কোনো শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এই প্রক্রিয়া শুধু ম্যাচ চলাকালীন ঘটে যাওয়া ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরের ঘটনাও এর আওতায় পড়ে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, বার্কো ও বেলিংহ্যামের ঘটনার টেলিভিশন ফুটেজ ফিফা খতিয়ে দেখবে কি না।
ভিডিওতে দেখা যায়, বেলিংহ্যাম বার্কোর মাথায় আঘাত করেন। এরপর দুই দলের অন্য খেলোয়াড়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের আলাদা করে দেন।
ফিফা যদি মনে করে ভিডিওটি তদন্তের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে সেটিই শাস্তিমূলক তদন্তের অন্যতম প্রধান প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এখন পর্যন্ত ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি যে তারা এ ঘটনায় কোনো তদন্ত শুরু করেছে।
প্রথমে ফিফা নির্ধারণ করবে ঘটনাটি শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্তের যোগ্য কি না। এরপর প্রয়োজন হলে তারা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
বিশ্বকাপের নজর এখন ফাইনালের দিকে চলে গেলেও, ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল হারের পর বেলিংহ্যাম ও বার্কোর এই সংঘর্ষ এখনও টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আলোচিত অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর একটি।
ফিফা যদি শেষ পর্যন্ত বেলিংহ্যামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে তিনি শুধু তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নয়, ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ম্যাচেও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন।