নিশ্চিতভাবেই এটি ব্রাজিলের “ভিনটেজ” দল নয়, এমন মন্তব্যই এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে ফুটবল বিশ্বে। বিশ্বমানের কোচ কার্লো আনচেলত্তি দায়িত্বে থাকলেও, একা তার পক্ষে সব কিছু বদলে দেওয়া সম্ভব হয়নি, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। নরওয়ের বিপক্ষে তিনি নিজের নবম বিশ্বকাপ গোল করলেও, আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অধ্যায়টি যেন অপূর্ণই থেকে গেল, যেখানে সম্ভাবনা ছিল আকাশছোঁয়া, কিন্তু বাস্তবতা ততটা সমৃদ্ধ হয়নি।
এই বিদায় ব্রাজিলের জন্য আরও বড় ধাক্কা। কারণ, ১৯৯০ সালের পর এটিই তাদের সবচেয়ে আগেভাগে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। সেই আসরে আর্জেন্টিনার কাছে শেষ ষোলোতেই থেমেছিল সেলেসাওদের যাত্রা। এরপর টানা ৮টি বিশ্বকাপে অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা।
অন্যদিকে ডিফেন্সে গ্যাব্রিয়েল ও মারকিনিয়োস ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত মৌসুম কাটালেও নরওয়ের আর্লিং হলান্ডকে থামাতে পারেননি। হলান্ডের প্রথম গোল আসে শক্তিশালী হেড থেকে, আর দ্বিতীয়টি বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে, যেখানে ব্রাজিল রক্ষণভাগ তাকে পর্যাপ্ত চাপ দিতে ব্যর্থ হয়।
আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কিছু মুহূর্তে ঝলক দেখালেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার অবদান ছিল একমাত্র এন্ড্রিককে দেওয়া দারুণ থ্রু পাস। তবে সেই সুযোগও নষ্ট করেন ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড, ভারী টাচে গোলরক্ষকের সঙ্গে এক-অন-ওয়ান অবস্থায় সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি।
সবচেয়ে বড় “যদি” রয়ে যায় ব্রুনো গুইমারাইসের পেনাল্টি মিস। প্রথমার্ধে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের গতিপথ ভিন্ন হতে পারত, কিন্তু তার ধীরগতির শট সহজেই রুখে দেন নিল্যান্ড।
সব মিলিয়ে ব্রাজিলের জন্য সামনে এখন বড় প্রশ্ন—পুনর্গঠন, নতুন প্রজন্ম গড়া এবং পরবর্তী চক্রে আবারও বিশ্বকাপ শিরোপার পথে ফেরা। তবে সেটি করতে হলে আনচেলত্তির সামনে রয়েছে বিশাল কাজের বোঝা।