বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার চার আসামির জামিন আবেদন নাকচ করেছে আদালত। এ মামলার আসামি মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, এস এম মাহমুদ সেতু এবং মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে জামিনের আবেদন করেছিলেন। আজ রবিবার (৭ জুন) ভার্চুয়াল কোর্টে শুনানি শেষে বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান তা নামঞ্জুর করেন।
আসামিদের পক্ষে ফারুক আহাম্মদসহ চার আইনজীবী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জামিন শুনানিতে অংশ নেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে এর বিরোধিতা করেন এ ট্রাইবুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আবদুল্লাহ ভূঞা।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদনে বলেন, কাশিমপুর কারাগারের একজন কারারক্ষী করেনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সেখানে আসামিরা খুব ‘অনিরাপদ’ অবস্থায় রয়েছেন। তাছাড়া আসামিদের কয়েকজনের নাম এজাহারে নেই। তাদের জামিন দেওয়া হোক।
এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, রাসেল ও ফুয়াদের নির্দেশনায় আবরার হত্যাকাণ্ড ঘটে। বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ঘটনা ঘটিয়ে ২০১০ নম্বর কক্ষে মামলার আলামত ক্রিকেট স্ট্যাম্প, আবরারের ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন রাখা হয়। ওই কক্ষে থাকতেন ফুয়াদ।
ট্রাইবুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আবদুল্লাহ বলেন, মামলার বিচার শুরুর আগেই আসামিদের জামিন হয়ে গেলে তারা সাক্ষীদের টেম্পার করবে। সুতরাং জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হোক।
এর আগে গত ২ জুন একই আদালত আসামি মেফতাহুল ইসলাম জিয়নের জামিন আবেদন নাকচ করে দেয়।
গত ৬ এপ্রিল এ ট্রাইব্যুনালে আবরার হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ায় তা আর হয়নি। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যে কোনো মামলা ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা না গেলে আরও ৪৫ দিন সময় নিতে পারে আদালত।
বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে গত ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন আবরারের বাবা ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে।
পাঁচ সপ্তাহ তদন্ত করে তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান গত ১৩ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে যে অভিযোগপত্র জমা দেন, সেখানে আসামি করা হয় মোট ২৫ জনকে। অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গত ১৮ নভেম্বর পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। তাদের মধ্যে একজন পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
এ মামলায় কারাগারে থাকা ২২ আসামি হলেন-বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, বহিষ্কৃত তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, বহিষ্কৃত ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, বহিষ্কৃত উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, বহিষ্কৃত সদস্য মুনতাসির আল জেমি, মোজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, ইসতিয়াক হাসান মুন্না, মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মনিরুজ্জামান মনির ও আকাশ হোসেন, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ ও মোয়াজ আবু হোরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, এস এম মাহমুদ সেতু, এজাহারের বাইরের ছয় আসামি হলেন-বুয়েট ছাত্রলীগের গ্রন্থণা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা, মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, মাহামুদ সেতু ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম।
পলাতক বাকি তিন আসামি হলেন- ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ১৬তম ব্যাচের ছাত্র মাহমুদুল জিসান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের মুজতবা রাফিদ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আদালতে ৮ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।