মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন: মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে হামলা-ভাঙচুর 

০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৫ PM
মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে হামলা-ভাঙচুর 

মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে হামলা-ভাঙচুর  © টিডিসি সম্পাদিত

রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির অস্থায়ী ক্যাম্পাসের পদ্মা ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ সময় নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং তাদের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, কয়েক দফায় হামলা ও ভাঙচুরের পর বিক্ষোভকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, পাইপ ও ইটপাটকেল নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ভুক্তভোগী এক নারী শিক্ষার্থী জানান, প্রথম দফায় হামলার সময় তারা পদ্মা ভবনের সামনে ছিলেন। হামলাকারীরা বাইরে থেকেই ভবনে ভাঙচুর চালান। পরে তাঁরা সরে গেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভাঙচুরের ছবি তুলতে ভবনের ভেতরে যান। এ সময় রাস্তা থেকে আসা এক ব্যক্তি ভিডিও ধারণের অভিযোগ তুলে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং মুঠোফোন দেখতে চান। একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করা হয়। পরে অন্য শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা তাঁদের নিরাপদে ভেতরে পাঠিয়ে দেন। এরপর হামলাকারীরা আবারও ফিরে এসে ভবনে ভাঙচুর চালান।

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস প্ল্যাটফর্মের সেক্রেটারি আহমেদ মুকতাফি রোহান বলেন, মিরপুরের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। গত কয়েক মাসে সেখানে বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আজকের হামলা শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হামলার সময় পদ্মা ভবনে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সকাল থেকে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। আগুন নেভাতে গেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরও ধাওয়া দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর, মিরপুর-১১ ও ১২ নম্বর এবং প্রশিকা মোড়সহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।

এর আগে গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। ওই দিন মিরপুর-১ নম্বরের শাহ আলী এলাকায় হিমালয় গার্মেন্টস ও পাশের বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে কালশীর আদর্শনগর এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বিক্ষোভকারীরা।

পোশাক শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণে শ্রম মন্ত্রণালয় নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।

এআইয়ের যুগে মিডিয়া লিটারেসি: তথ্যের সাগরে সত্য চেনার লড়াই
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
বাদাম বিক্রি ছেড়ে স্কুলে যাবে ৮ বছরের হাসান, পাশে দাঁড়ালেন …
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
মাথায় বুলেট নিয়েই ২ বছর পর চলে গেলেন আবু সাঈদের সহযোদ্ধা চন…
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়েটে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে অধ্যাপক দেলোয়ার, প্রতিবাদে…
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
জগন্নাথ হলে ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করে ধরিয়ে দেওয়া হলো ‘আপা আপ…
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
ছেলেকে এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপি নেতার কাণ…
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬