শিক্ষার্থীদের অবস্থান © টিডিসি ফটো
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা নতুন করে পৃথক Department of Data Science না খুলে পরিসংখ্যান বিভাগের সঙ্গে ডেটা সায়েন্সকে একীভূত করে Department of Statistics and Data Science নামে বিভাগ পরিচালনার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী ডেটা সায়েন্স মূলত পরিসংখ্যান, গণিত ও কম্পিউটেশনাল মডেলিংয়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি আন্তঃবিষয়ক শাখা। নতুন একটি বিভাগ খোলার পরিবর্তে বিদ্যমান পরিসংখ্যান বিভাগে ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক আধুনিক কোর্স সংযোজন করলে শিক্ষার্থীরা আরও সমন্বিত শিক্ষা লাভ করবে।
তাদের দাবি, আলাদা বিভাগ চালু হলে একই ধরনের পাঠ্যক্রম ও দক্ষতার কারণে একাডেমিক ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাকরি, উচ্চশিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য তারা নতুন বিভাগ চালুর পরিবর্তে Department of Statistics and Data Science নামে বিভাগ পরিচালনার প্রস্তাব দেন।
পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অলিপ বলেন, ডেটা সায়েন্সের ভিত্তি পরিসংখ্যান। আলাদা বিভাগ খোলার পরিবর্তে পরিসংখ্যান বিভাগের সঙ্গে ডেটা সায়েন্সকে একীভূত করলে শিক্ষার্থীরা আরও সমৃদ্ধ ও যুগোপযোগী শিক্ষা পাবে। আমরা আধুনিক কারিকুলাম চাই, বিভাজন নয়।
২০২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের অধীনেই ডেটা সায়েন্স পড়ানো হয়। তাই হাবিপ্রবিতেও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে Statistics and Data Science বিভাগ গঠন করা হলে তা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য বেশি উপকারী হবে।
২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেধা বলেন, "আমরা ডেটা সায়েন্সের বিরোধী নই। বরং আমরা চাই আধুনিক বিষয়গুলো পরিসংখ্যান বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন একটি বিভাগ গড়ে তোলা হোক, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক।