শাবিপ্রবির পিএমই বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এনে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৫ PM
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) জ্বালানি ও খনি প্রকৌশল (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা পূরণ না করা ব্যক্তিকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে দুই সপ্তাহ ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগ পাওয়া প্রার্থী তাজবিউল ইসলাম বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেননি।

অনিয়ম করে নিয়োগ দেওয়া প্রার্থীর নাম তাজবিউল ইসলাম। তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-শিবপুর থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। সেখানে স্নাতকে তার সিজিপিও ৭.৩৫। কিন্তু স্নাতকের সিজিপিএ ৭.৩৫-কে বাংলাদেশে প্রচলিত পদ্ধতি সিজিপিএ ৪-এ রূপান্তর করলে তা ৩.২১ হয় বলে জানান পিএমই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম।

অথচ ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সর্বনিম্ন ৩.৫০ সিজিপিএ চাওয়া হয়। কিন্তু তাজবিউল ইসলামের আবেদনের যোগ্যতা না থাকলেও তাকে মৌখিক পরীক্ষার কার্ড দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে গত ৮ অক্টোরব তিন সদস্য বিশিষ্ট গঠিত তদন্ত কমিটি বিভাগটির এ শিক্ষক অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণিত হয় বলে জানান ওই বিভাগের প্রধান। এরপর কেন তাজবিউলের বেতন-ভাতা বন্ধ করে চাকরিচ্যুত করা হবে না, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কারণ দর্শানোর সুপারিশ করে ওই তদন্ত কমিটি।

আরও পড়ুন: বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা বেকার বাড়াচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৫তম সিন্ডিকেট সভায় তাজবিউলের বেতন-ভাতা বন্ধ করে চাকরিচ্যুত করা হবে কি না, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার মন্তব্য চাওয়া হয়। কিন্তু সিন্ডিকেট সভা মন্তব্য চাওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন উপদেষ্টার মন্তব্য নেয়নি বলে অভিযোগ পিএমই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাজউদ্দিন বলেন, ‘আমার কাছে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে কি না বা আমি দিয়েছি কি না, ফাইল দেখা ছাড়া বলতে পারব না। ফাইল দেখে বলতে হবে।’

এদিকে নিয়োগের দেড়  বছর পর তাজবিউলকে চাকরিতে যোগদানে বিরত রাখায় তিনি গত ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করে। রিটের কপি নিয়ে তিনি ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। এরপর পিএমই বিভাগের শিক্ষার্থীরা ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, তাজবিউলের নিয়োগ বাতিল না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দেবেন।

এ বিষয়ে বিভাগটির ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহয়ী শারদ বলেন, ‘আবেদনের জন্যই অযোগ্য এমন এক ব্যক্তিকে ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিরুদ্ধে আমরা বিভাগের সবাই সরাসরি প্রতিবাদ জানাই। ধাপে ধাপে বিভিন্ন সময় প্রশাসনের দরজায় কড়া নাড়াসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেড় বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত আমরা কেবল কিছু সাময়িক আশ্বাস পেয়েছি। কিন্তু এই অবৈধ নিয়োগ এর কোনো সুরাহা হয়নি, যা চরম হতাশার এবং চরম লজ্জাজনক। এরই প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা আমদের ডিপার্টমেন্টের সকল প্রকার ক্লাস পরীক্ষা ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রেখেছি। পরবর্তী কার্যদিবস, অর্থাৎ রবিবারও যদি আমরা এ সমস্যার সঠিক সমাধান না পাই, তাহলে আমরা বিভাগের সকলে সম্মিলিতভাবে কঠোরতর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হব।’

আরও পড়ুন: পে স্কেল বাস্তবায়ন চেয়ে আল্টিমেটাম দিয়ে নতুন কর্মসূচি সরকারি কর্মচারীদের

বিভাগটির অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তানজিদ রহমান অপূর্ব বলেন, ‘দেড় বছর ধরে আমরা পিএমই বিভাগের সব শিক্ষার্থী অবৈধ শিক্ষক নিয়োগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাচ্ছি। এ বিষয়টি স্বচ্ছ ও দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করার জন্য, আমরা ডিপার্টমেন্টের সব শিক্ষার্থী প্রথমে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিই, কিন্তু কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করার উদ্যোগ গ্রহণ  করেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন বরাবরের মতই আমাদের হতাশ করে যাচ্ছে। তারা আমাদের প্রতিবার কথা দিয়ে যায় নিয়োগ বাতিল হবে, কিন্তু কোনো এক দৈব্যশক্তির কারণে তার নিয়োগ বাতিল করা হয়নি। প্রশাসন এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে আমরা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আর ক্লাসে ফিরব না। আমাদের একটাই দাবি এই অবৈধ নিয়োগ বাতিল করতে হবে।’

এ বিষয়ে পিএমই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যে শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, ভিসি ফরিদের আমলে, তা সম্পূর্ণ অনিয়ম করে হয়েছে। ওই প্রার্থীর ন্যূনতম যোগ্যতাই নেই আবেদনের। তারপরও তাকে নিয়োগে দিয়েছে। আমি সব সময় শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পক্ষে।’

তিনিবলেন, ‘আমাদের বিভাগে শিক্ষককের খুবই সংকট। তার ওপরও অনিয়ম করে এ শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আমাদের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ নানা আন্দোলন-কর্মসূচি পালন করেছে। এখনো বিভাগে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা ফিরছে না।’

আরও পড়ুন: রমজানে ওজন কমাতে ইফতার-সাহরিতে কী খাবেন, তাসনিম জারার পরামর্শ

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম  আরও বলেন, ‘তাজবিউল হাইকোর্টে রিট করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রিট খারিজে আপিল করেছে। আগামী সপ্তাহে সেটা চেম্বার জজে উঠবে বলে প্রশাসন বলেছে।’

এ সময় এ নিয়োগ বাতিলে প্রশাসনের স্বদিচ্ছা ও আন্তরিকতার ঘাটতির অভিযোগ তুলেন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রিট খারিজ করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পিএমই বিভাগীয় প্রধানের পছন্দমতো উকিল দিয়েই এটা করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে তাজবিউল ইসলামকে একাধিক কল দিলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

যশোরে ছয় বছরে ১৪ হাজারের বেশি আত্মহত্যার চেষ্টা, ৩৪৪ জনের ম…
  • ১৫ জুলাই ২০২৬
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে: …
  • ১৫ জুলাই ২০২৬
৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বিএনপির নয়, এখন জনগণের সম্পদ: প্রধা…
  • ১৫ জুলাই ২০২৬
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ফেলোশিপ, আবেদন করতে পারবেন…
  • ১৫ জুলাই ২০২৬
জীবিকার তাগিদে এসেছিলেন ময়মনসিংহে, ফিরলেন লাশ হয়ে
  • ১৫ জুলাই ২০২৬
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের একাদশে থাকছেন যারা
  • ১৫ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence