জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
ভিসি-প্রোভিসির পদত্যাগের দাবিতে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভ © টিডিসি ফটো
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরের একটি অংশ। পরে বিষয়টি নিয়ে একটি বৈঠকে বসেন শিক্ষকরা। আলোচনার টেবিলেও তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং ক্যাম্পাস এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেটে তালা লাগিয়ে অবস্থান নেন তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, ডিপিপি (DPP) প্রকল্পের নামে কালক্ষেপণ, অর্থ অপচয়, নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনিক বৈষম্য চলছে। পাশাপাশি তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেট সভা ডেকে অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই বলে জানান আন্দোলনকারী শিক্ষক আল মামুন সরকার।
এদিকে আন্দোলনের ব্যানারে শিক্ষার্থীদের নাম ব্যবহার করায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে টানানো ব্যানার অপসারণ করেন। ছাত্রদল ও শিবিরের নাম জড়ানোর অভিযোগ উঠলে সংগঠন দুটিও সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে।
জানা গেছে, সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরের একটি অংশ প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে দুপুরে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন ক্যাম্পাসে এসে আন্দোলনকারীদের দাবি শোনার আশ্বাস দিলে প্রধান ফটকের তালা খোলা হয় এবং কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। প্রশাসনিক ভবনের তালাও খুলে দেওয়া হয়।
পরে আলোচনার জন্য উপাচার্যের সভাকক্ষে একটি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে উপস্থিত হয়ে শিক্ষকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাদীকুর রহমান বলেন, ‘উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়েছে।’