আহত শিক্ষার্থী রাজিব সরকার © সংগৃহীত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) পূর্বশত্রুতার জেরে ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষের গ্রুপের এক কর্মীর ইটের আঘাতে মাথা থেঁতলে দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগের অপর গ্রপের অনুসারীরা। গুরুতর আহত শিক্ষার্থী রাজিব সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক। তিনি সিনিয়র ছাত্রলীগ নেতা মুশফিকুর রহমান ভূইয়া জিয়ার অনুসারি।
শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে রাজিব সরকারকে একযোগে আক্রমণ করে সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনের অনুসারী কয়েকজন কর্মী। এসময় ইটের কয়েকটি টুকরো দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে হামলাকারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ইমন এন্টারপ্রাইজ এর সামনে রাজিব একা অবস্থান করছিলো। এমন সময় তিন-চারজন এসে এলাপাতাড়ি আক্রমন চালায় রাজিবের উপর। একপর্যায়ে ইটের টুকরো দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মাথার সামনের অংশ থেঁতলে যায়। আহত অবস্থায় রাজিব সরকারকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। এছাড়া তার মাথার পাশাপাশি পিঠে ও হাতে জিআই ও ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। শাখা ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনের অনুসারীরা রাজিব সরকারের ওপর হামলা করেছে বলে দাবি করেছে সিনিয়র ছাত্রলীগ নেতা মুশফিকুর রহমান ভূইয়া জিয়া।
এ বিষয়ে মুশফিকুর রহমান ভূইয়া বলেন, সাখাওয়াত হোসেনের অনুসারী বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে রাজিবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় সোহাগ, রিশাদ, সজিব, সুমন মিয়া, আমিনুল ইসলাম, সুজন বৈষ্ণবসহ আরও কয়েকজন রাজিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইট, জিআই পাইপ ও দা দিয়ে আঘাত করে। এসময় তার মাথা থেতলে যায় এবং প্রচুর রক্তকরণ হয়। রাজিবকে হত্যার উদ্যেশ্যে তিনটি মোটরসাইকেল যুগে এসে হামলা করে পালিয়ে যায়।
শাখা ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত ও দু:খজনক। যে বা যারা এটি সংঘটিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর জাহিদ হাসান হাসপাতালের ডাক্তারের বরাত দিয়ে জানান, রাজিবের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে তবে সে আশংকা মুক্ত নয়। আর পূর্ব বিরোধের জেরে এই হামলা হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এই দুই গ্রুপের মাঝে দফা দফায় পাল্টাপাল্টি হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে এনিয়ে একটি তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়।