শাবিপ্রবি’র গ্রন্থাগার দিবসের র্যালি © টিডিসি ফটো
‘গ্রন্থাগারে বই পড়ি, আলোকিত মানুষ গড়ি’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বর্ণিল শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে লাইব্রেরিয়ান আব্দুল হাই ছামেনীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এসময় গ্রন্থাগার দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি ও স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট এন্ড বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশনের ডিন অধ্যাপক ড. মোছাদ্দেক আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস।
সঞ্চালনার শুরুতে লাইব্রেরিয়ান আব্দুল হাই ছামেনী বলেন, গত বছর থেকেই সরকার গ্রন্থাগার দিবস শুরু করেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে গ্রন্থাগার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হৃদয় হচ্ছে গ্রন্থাগার। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীরা প্রথম দিন থেকেই গ্রন্থাগার থেকে বই নিতে পারছে যা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরল।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, প্রবাদে আছে ‘‘দেহের রোগ সারানোর মাধ্যম হচ্ছে হাসপাতাল, আর মনের রোগ সারানোর অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে গ্রন্থাগার’’। একটি দেশ বা জাতি কতটুকু উন্নত সেটা তাদের গ্রন্থাগার গুলোর সমৃদ্ধতার উপর নির্ভর করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ডিজিটাল কন্টেন্টে প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। গ্রন্থাগারের বাজেট বিগত বছরের ১২ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে এখন তা ৬০ লাখ টাকা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক জাতিসংঘের একটি প্রোগ্রামে বুয়েটকে পিছনে ফেলে আমরা ফোকাল পয়েন্টে আসতে পেরেছি। আমাদের গ্রন্থাগারে শুধুমাত্র আমাদের বই-ই নয় বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত গ্রন্থাগারের বই পড়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আমাদের বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের গ্রন্থাগারে আসার প্রবণতা কম। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের গ্রন্থাগার কেন্দ্রীক পড়াশুনা করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- আইকিউএসি এর পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল আওয়াল বিশ্বাস, সেন্টার অব এক্সিলেন্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. আখতারুল ইসলাম, শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুল আলম, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার, প্রক্টর অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ, ডিন অব সোস্যাল সায়েন্স অধ্যাপক ড. আব্দুল গনিসহ বিভিন্ন স্কুলের ডীনবৃন্দ, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের হেড অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।