পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি)। দীর্ঘ এক মাস ৩দিন বন্ধ থাকার পর খোলার প্রথম দিনেই তোপের মুখে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ১০ ছাত্র বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও ছয়দফা দাবিতে রবিবার ক্যাম্পাসে এসেই বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। শুধু ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অবস্থানও কর্মসূচিও পালন করে তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শরীর থেকে রক্ত বের করে ক্যম্পাসে তাদের দাবি-দাওয়া লেখেন। সেই সঙ্গে ঘোষণা দেন, ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। আজ সোমবারও তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বতর্মান প্রশাসনকে অযোগ্য দাবি করে তাদের হাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে মুক্ত করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনারও দাবি জানান। ক্যম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে না আসা পর্যন্ত তারা সকল ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, এর আগে ৬ দফা দাবিতে আমরা ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করি। দীর্ঘ তিন বছর ধরে আমরা এই আন্দোলন করে আসছিলাম। ভিসি স্যার আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়ার জন্য আমাদের কাছ থকে সময় নিয়ে রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভা করে আন্দোলনরত ১০ শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে বহিষ্কার করে ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। দীর্ঘ একমাস এই ক্যাম্পাস বন্ধ রেখে আমাদের শিক্ষার কার্যক্রম পিছিয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, রক্ত দিয়ে হলেও আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে বলে জানান।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের শরীর থেকে সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত বের করে ক্যম্পাসে তাদের দাবিগুলো লিখে দেয়। তাদের দাবী রক্ত দিয়ে হলেও আদায় করা হবে বলেও জানান তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, আমরা ক্লাস নেওয়ার জন্যে সকালে ক্যম্পাসে এসেই দেখি শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। আসলে বুঝতে পারছি না কেন এমন হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন যুক্তিতে শিক্ষার্থীদের সাথে সমঝোতা ছাড়াই ক্যম্পাস খুলে দিলো। ক্লাস বা পরীক্ষাই যদি না হয় তাহলে কোন যুক্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হলো। আর এই সামান্য বিষয়ে যদি প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সাথে সমঝোতা না করতে পারেন তাহলে তাদের কাজটা কি? সেইটা আমাদের বোধগম্য নয়। তবে এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর সাত দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলোর মধ্যে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষসহ পরবর্তী সকল ব্যাচ সমূহের অডিন্যান্সের আওতাভুক্ত করা, হলের ডাইনিংয়ের খাবার উন্নয়নের জন্য ভর্তুকি প্রদান, ক্লাস রুম ও চেয়ার সংকট দূর করা, পরিবহন সংকট সমাধান, ক্যাম্পাসে ওয়াইফাই চালু এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা। ওই দিন ভাইস চ্যান্সেলর ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার সময় ধাক্কা-ধাক্কির মত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ভিসি তাদের সঙ্গে কোন প্রকার আলাপ আলোচনা ছাড়াই রিজেন্ট বোর্ডের সভা করে ১০ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও ক্যম্পাস অনির্দিষ্ট কালের জন্যে বন্ধ ঘোষণা করেন। নতুন করে ক্যাম্পাস খোলার ঘোষণা দিলেও তাদের দাবির বিষয়ে কিছুই জানায়নি প্রশাসন। এ কারণেই তারা আন্দোলন করছেন।
প্রসঙ্গত, গত ৫ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর জানায়, রিজেন্ট বোর্ড জরুরি সভা শেষে ৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৭ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল খুলবে এবং ৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী রবিবার ক্যাম্পাস খোলা হয়।