ফারদিনের মৃত্যুতে বুশরার দায় নেই, চার্জশিটে বলবে ডিবি

১৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৪৪ PM , আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৫, ০২:৪৩ PM
ফারদিন ও তার বান্ধবী বুশরা

ফারদিন ও তার বান্ধবী বুশরা © ফাইল ছবি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী  ফারদিন নূর পরশের মৃত্যুর সঙ্গে তার বান্ধবী আমাতুল বুশরার কোনো সম্পৃক্ততা পায়নি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাই মামলার চার্জশিটে বিষয়টি উল্লেখ করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবিপ্রধান মো. হারুন অর রশিদ।

ফারদিনের ‘আত্মহত্যা’ সংক্রান্ত আলামত আজ বৃহস্পতিবার বুয়েট শিক্ষার্থীদের দেখান ডিবি কর্মকর্তারা। পরে আলোচিত এই ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিবিপ্রধান মো. হারুন।

তিনি বলেন, সেদিন (৪ নভেম্বর) রাতে বুশরাকে নামিয়ে দেয়ার পর ফারদিনের সঙ্গে বুশরার একবারই ম্যাসেজের মাধ্যমে কথা হয়েছিল। বুশরা জানতে চেয়েছিলেন, ফারদিন বাসায় পৌঁছেছেন কিনা। এর উত্তরে ফারদিন শুধু উত্তর দিয়েছিলেন ‘ইয়েস’।

আরও পড়ুন: সেতু থেকে ফারদিনের লাফ দেওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ দিল র‌্যাব

“এ ঘটনায় বুশরার কোনো সম্পৃক্ততা আমরা পাইনি, এটা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করব। এরপর বুশরাকে ছাড়া হবে কিনা সেটা আদালত সিদ্ধান্ত জানাবেন।”

ফারদিনের আত্মহত্যার মোটিভ সম্পর্কে তিনি বলেন, ফারদিনের মানসিক অবস্থার কথা আমরা আপনাদের বলেছি। এমনকি বুশরাকে নামিয়ে দিয়ে তিনি একা একা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেরিয়েছেন, কোনো জায়গায় তার সঙ্গে কেউ ছিলেন না।

“তিনি এটেম্পট নিয়েছিল বাবুবাজার ব্রিজের ওখানে, কিন্তু সেখানে অনেক লোক থাকায় ঝাঁপ দেননি। সেখান থেকে গেলেন জনসন রোড, সেখান থেকে গুলিস্তান, এরপর গেলেন যাত্রাবাড়ী, যাত্রাবাড়ী থেকে লেগুনায় করে সুলতানা কামাল ব্রিজের ওখানে গেছেন।”

আরও পড়ুন: ডিবির আলামত দেখে যা জানাল বুয়েট শিক্ষার্থীরা

হারুন অর রশিদ বলেন, ৩৮ দিন তদন্তের পর আমরা বলেছি এটা একটা সুইসাইডাল ঘটনা, কেউ তাকে মারেনি। আজকে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের আমরা তিন ঘণ্টা ধরে সব তথ্যপ্রমাণ দেখিয়েছি। আমরা সব যুক্তি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে উপস্থাপন করেছি। তাদের বুঝিয়েছি যে, এই এই কারণে ফারদিন আত্মহত্যা করেছেন।

“গত দুই বছরে ফারদিনের মুঠোফোনের লোকেশন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে তিনি আগে কখনও বাবুবাজার ব্রিজ বা সুলতানা কামাল ব্রিজে যাননি। দুই বছরে ৫২২টি নম্বরে ফারদিন কথা বলেছেন, তাদের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি।”

এছাড়া ফারদিন মানুষের ৩০ বছরের বেশি বাঁচা উচিত নয় এমন মতাদর্শের দুই দার্শনিকের বই পড়তেন এবং তাদের মতাদর্শকে ধারণ করতেন। এসব বিষয় নিয়ে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে নানান সময়ে আলোচনা করেছেন। তাছাড়া ফারদিন তার কয়েকজন বন্ধুকে বলেছিলেন যে কোনো এক শুক্রবারে কারও আত্মহত্যার খবর পওয়া যাবে। ফারদিন নিজেও শুক্রবারেই আত্মহত্যা করেছেন। এটাতে আমরা আরও নিশ্চিত হয়েছি।

৪ নভেম্বর ফারদিন নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এ-সংক্রান্ত মামলার তদন্ত করছে ডিবি। পাশাপাশি র‌্যাবসহ আরও কয়েকটি সংস্থা ছায়াতদন্ত করছে।

আরও পড়ুন: আত্মহত্যাকারী ব্যক্তিই যে ফারদিন, সেটিই তো নিশ্চিত না: বাবা

পুলিশি তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেল থেকে রাত ১০টা নাগাদ বুশরাকে নিয়ে রাজধানীর কয়েকটি জায়গায় ঘোরাঘুরি করেন ফারদিন। এরপর রামপুরায় বুশরা যে মেসে থাকেন তার কাছাকাছি তাকে পৌঁছে দেন। পরে ফারদিন আর বুয়েট ক্যাম্পাস বা নিজের বাসায় ফেরেননি।

ফারদিনের মরদেহ উদ্ধারের তিন দিনের মাথায় ১০ নভেম্বর রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমাতুল্লাহ বুশরার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও পরিকল্পিতভাবে লাশ গোপন করার অভিযোগ এনে রামপুরা থানায় মামলা করেন তার বাবা কাজী নুরউদ্দিন রানা।

ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করে রামপুরা থানার পুলিশ। এরপর তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। বুশরা এর পর থেকে কারাগারে আছেন।

গতবার নিষেধাজ্ঞা, এবার অব্যাহতি—মেসিকে ঘিরে বদলে গেল এমএলএস…
  • ২৬ জুলাই ২০২৬
ওজন কমাতে চান? নিয়মিত পান করুন এই ৮ স্বাস্থ্যকর পানীয়
  • ২৬ জুলাই ২০২৬
সাবেক রাষ্ট্রপতির বিচারে ৫১ অনুচ্ছেদে বাধা নেই: শিশির মনির
  • ২৬ জুলাই ২০২৬
এইচএসসির রসায়নের সেই ৪ প্রশ্নের বিষয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন নি…
  • ২৬ জুলাই ২০২৬
কনটেন্ট ক্রিয়েটর আইশোস্পিডের রেকর্ড ভাঙলেন মোদি
  • ২৬ জুলাই ২০২৬
এইচএসসির রসায়ন প্রশ্নে কোনো ভুল নেই, বলছে শিক্ষা বোর্ড
  • ২৬ জুলাই ২০২৬