প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড ব্যবধান প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারছেন, কর্তৃপক্ষ কেন পারছে না?

২০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৪ PM
প্রাথমিক শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন

প্রাথমিক শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন © টিডিসি ফটো

প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারছেন, আমার কর্তৃপক্ষ কেন বুঝতে পারছে না? তিনি যে বেতন বাড়ানোর কথা বলছেন, সেই কথাগুলো আমাদের কর্তৃপক্ষ কেন বুঝতে পারছে না? প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেডের ব্যবধান আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নীতি নির্ধারণী চেয়ারম্যান জনাব মোঃ সিরাজুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রতিশ্রুতির প্রকৃত মূল্য তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় যখন তা বাস্তবে কার্যকর হয়। আপনারা জানেন যে, আমাদের প্রধান শিক্ষক ইতিপূর্বে ১২তম গ্রেডে ছিলেন। আমরা সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে ছিলাম। ১গ্রেডের ব্যবধান ছিল, কিন্তু বর্তমানে প্রধান শিক্ষক ১০ গ্রেডে গ্যাজেটেড হওয়ার কারণে ব্যবধান তিনটি গ্রেড হয়ে গেছে, আপনারা জানেন। তিনটি গ্রেড! এই সহকারী শিক্ষকদের ব্যবধান এক গ্রেডের পরিবর্তে তিন গ্রেড যা মেনে নেওয়া যায় না।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের যে কোনো মূল্যে শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। শিক্ষা শিক্ষা এবং শিক্ষা। আমি মনে করি প্রাথমিক শিক্ষার ওপর আমাদের সবচাইতে বেশি জোর দিতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর আমাদের আরও বেশি জোর দিতে হবে। এটা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য। তিনি আরও বলেছেন, আমরা যে দুর্নীতির কথা বলছি, এই দুর্নীতি যদি নির্মূল করতে হয়, দুর্নীতিকে যদি কমিয়ে নিয়ে আসতে হয়, তাহলে দুর্নীতি যে খারাপ, দুর্নীতি থেকে দূরে থাকা উচিত, এটি যদি নির্মূল করতে হয় সমাজে, তাহলে অবশ্যই এটি প্রাইমারি স্কুল থেকেই করা উচিত।

তিনি আরও বলেছেন, এক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ দিয়ে শুধু স্কুল তৈরি করলেই হবে না। শুধু বিল্ডিং তৈরি করলাম—সেটা নয়, বিল্ডিংই সব নয়। প্রাথমিক শিক্ষকদের কোয়ালিটি ইম্প্রুভ করার জন্য তাদেরকে সেই কমফোর্ট দেবার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তার মানে তিনি শিক্ষকদের কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শিক্ষককে যদি চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়, কোনোভাবে তাড়াতাড়ি ক্লাস শেষ করে তার ছোট দোকানটাকে খুলতে হবে অথবা কৃষিজমিতে চাষ দিতে হবে। কারণ, সেকেন্ড তার একটা ইনকাম সোর্স বের করতে হবে। তা না হলে তার সংসার চলবে না। তাহলে আমরা সেই কমফোর্ট শিক্ষকদের কাছ থেকে পাবো না।

এই নেতা বলেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারছেন, আমার কর্তৃপক্ষ কেন বুঝতে পারছেন না? তিনি যে বেতন বাড়ানোর কথা বলছেন, সেই কথাগুলো কেন বুঝতে পারছেন না? আমরা দেখেছি, ১৯৯২ সালে বিএনপি সরকারের আমলেই প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়, আমরা ২০০৩ সালে পুর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় হয়েছি। দুঃখের বিষয় হচ্ছে এখন পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার প্রতিষ্ঠিত হয়নি, এখনো পর্যন্ত না।

আমাদের কর্মকর্তারা আমাদেরকে ভুল বুঝিয়ে আমাদের সাথে ঐক্য করে বলে তোমরা তো ডিজি হবা, সচিব হবা, শিক্ষক তোমরা হবা। কেন অন্য বাইর থেকে পেছনে শিক্ষক কর্মকর্তারা আসবে? তোমরা কেন এই গ্যাজেটেড চাও? বরং এটা চাও না, কিন্তু ক্যাডার চাও না, প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার চাও না! কিন্তু পেছনে যেসব কর্মকর্তারা আসে ৫৬ বছর, ৫৭ বছরের তারা আমাদের দুঃখ-কষ্ট বোঝে না। তখন সেই সকল কর্মচারী যারা ৩০ বছর ধরে কাজ করতেছে, তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তারা কাজ করে। কারণ জীবনের শেষ বেলায় তারা আমাদের পক্ষে দুঃখের কথা কেউই মনে রাখতে পারে না।

‘জায়গা না পেয়ে গেটে বসেছিলাম, দুর্ঘটনার পর বালির মধ্যে পা আ…
  • ২০ অক্টোবর ২০২৬
যশোরে নিজ ঘর থেকে বৃদ্ধার গলাকাটা লাশ উদ্ধার
  • ২০ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজারে মিশুকের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশুর
  • ২০ অক্টোবর ২০২৬
আরও কঠোর নজরদারিতে আসছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা
  • ২০ অক্টোবর ২০২৬
নেশার টাকা না পেয়ে মাকে গলা কেটে হত্যা, ছেলে আটক
  • ২০ অক্টোবর ২০২৬
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে-স্কেল নির্ভর করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের…
  • ২০ অক্টোবর ২০২৬