এইচএসসির ফল তৈরি হচ্ছে কীভাবে—যা বলছে মন্ত্রণালয়-বোর্ড

এইচএসসির ফল প্রকাশ নিয়ে জটিলতা বাড়ছে
এইচএসসির ফল প্রকাশ নিয়ে জটিলতা বাড়লেও শিগগিরই সমাধান হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষাবোর্ডগুলো  © ফাইল ফটো

করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রায় সাত মাস ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সর্বশেষ আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নেয়া যায়নি চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষাও। এ পরীক্ষা বাতিল করা এসএসসি ও জেএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে আগামী মাসে এইচএসসির ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে সরকার ঘোষণা দিয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন। এর মধ্যে ১০ লাখ ৭৯ হাজার নিয়মিত এবং দুই লাখ ৬৬ হাজার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী। আগের বছর অনুত্তীর্ণ ও প্রাইভেট পরীক্ষার্থীরাও রয়েছেন এ তালিকায়। এবার জেএসসি ও এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসির মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয়ায় ফেল করবে না কোনো শিক্ষার্থী, সবাই পাস। তবে এভাবে ফলাফল তৈরি করতে গিয়ে শুরু থেকেই নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এইচএসসির পরীক্ষার ফলাফলের আলোকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের লেখাপড়া শুরু করে। ফলে এইচএসসি পরীক্ষা তাদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এবার এইচএসসি পরীক্ষা না হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের উপর মাত্র ২০ নম্বর বরাদ্দ করেছে। আগে ২০০ নম্বরের মধ্যে ৮০ নম্বর ছিল এসএসসি ও এইচএসসির জন্য।

সূত্র জানিয়েছে, এবারের এইচএসসির শুরুতেই বিভাগ পরিবর্তন করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এছাড়া যারা ভিন্ন ভিন্ন বিভাগ নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করেছেন তাদের ফলাফল কীভাবে তৈরি হবে সে বিষয়েও এখনও সমাধানে আসা যায়নি। আগের বছরের ফল খারাপ থাকায় অনেকে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা আর পরীক্ষা দিতে পারছেন না।

যারা জেএসসি ও এসএসসিতে ফল খারাপ করেছিল, তাদেরও এইচএসসিতে ভালো করার প্রস্তুতি কাজে লাগছে না। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকে। এছাড়া উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করা এবং ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের নিয়েও জটিলতা রয়েছে। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ ৩৪ হাজার হলেও মাত্র ১১ হাজার শিক্ষার্থীর জেএসসি বা জেডিসির সনদ রয়েছে। এখন তাদের ফল তৈরি করতে গিয়েও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নীতি নির্ধারকদের।

এ বিষয়ের এইচএসসির ফলাফল সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটির আহবায়ক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজমুল হক খান গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এ সংক্রান্ত কমিটি ফল তৈরির বিষয়ে কাজ করছে। এ ব্যাপারে দ্রুতই বিস্তারিত জানানো হবে।’ এসময় এইচএসসির ফল তৈরির রূপরেখা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পরই বলা যাবে।’

জানা গেছে, এসব জটিলতা কাটাতে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি যৌক্তিক সমাধান বের করার কাজ করছেন। ইতিমধ্যে কিছু সম্ভাব্য সমাধানও বের করেছেন তারা।চলতি মাসেই এ সংক্রান্ত গাইডলাইন তৈরি করে আগামী মাসে এইচএসসির ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এছাড়া কারিগরি ও অন্যান্য বিষয়ের সমাধানকল্পেও আলাদা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যসচিব ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা বিষয় ম্যাচিংয়ের কাজ করছি। পাশাপাশি ফলগুলোও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, আরও অনেক বিষয় নিয়ে কাজ চলছে। চলতি মাসেই এ সংক্রান্ত গাইডলাইনের কাজ শেষ করতে পারব বলে আশা করছি।’ ডিসেম্বরের মধ্যেই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ