চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যবই ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ শাহারিয়ার খান আনাস © টিডিসি সম্পাদিত
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো প্রাথমিকের চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ শাহারিয়ার খান আনাসের ‘শহিদ আনাসের কথা’ নামে একটি পাঠ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পাঠ্যবইয়ের তদারকির দায়িত্বে থাকা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রটি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানায়, গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিন জুলাই জাদুঘর উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঠ্যবইয়ে শহীদ আনাসের স্মৃতিচারণে একটি পাঠ যুক্ত করা হচ্ছে বলে আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তিকে আশ্বস্ত করেন। এরপরই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এনসিটিবি বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে।
এরই অংশ হিসেবে চতুর্থ শ্রেণির বাংলা বইয়ের ২৪ নম্বর পাঠে ‘শহিদ আনাসের কথা’ নামে একটি পাঠ যুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রেসগুলোতেও বইটি ছাপা শুরু হয়েছে। পাঠটিতে শহীদ আনাসের জন্ম, বেড়ে ওঠা, দেশভাবনা, স্বপ্ন, ব্যক্তিত্ব ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তার চিন্তা-ভাবনাসহ তার চিঠি গদ্য হিসেবে একটি গল্প আকারে পাঠটিতে থাকছে। এতে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা শহীদ আনাস সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিকের অষ্টম শ্রেণির বাংলা বইয়ে শহীদ আনাসের চিঠিটি যুক্ত করা হয়। অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বইটির শেষ প্রচ্ছদে শহীদ আনাসের চিঠিটির ছবি সংযুক্ত করে দেওয়া হয়। কিন্তু ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো পাঠ আকারে পাঠ্যবইয়ে যাচ্ছে শহীদ আনাসের স্মৃতিচারণ।
চতুর্থ শ্রেণির বাংলা বইয়ের ২৪ নম্বর পাঠে ‘আনাসের কথা’ নামে একটি পাঠ যুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রেসগুলোতেও বইটি ছাপা শুরু হয়েছে। পাঠটিতে শহীদ আনাসের জন্ম, বেড়ে ওঠা, দেশভাবনা, স্বপ্ন, ব্যক্তিত্ব ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তার চিন্তা-ভাবনাসহ তার চিঠি গদ্য হিসেবে একটি গল্প আকারে পাঠটিতে থাকছে। এতে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা শহীদ আনাস সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শহীদ আনাস একটি চিঠি লিখে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে যোগ দেয়। সেদিনই সে পুরান ঢাকার চানখাঁরপুলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়। একটি বুলেট তার বুকের বাঁ পাশ দিয়ে ঢুকে পিঠ ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এরপরই শহীদ আনাসের চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
কে এই আনাস
আনাস ছিলেন বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। ৫ আগস্ট বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে বিদায়ী চিঠি লিখে ফুসে উঠা কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন এবং চানখাঁরপুল এলাকায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিলো মাত্র ১৬ বছর ৯ মাস, যা সাধারণ জনতার বিবেকে নাড়া দিয়েছিল।
আনাস পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় অবস্থিত আদর্শ অ্যাকাডেমি গেন্ডারিয়ার দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তার পিতা সাহরিয়া খান একজন ব্যবসায়ী এবং তার মাতা সানজিদা খান দিপ্তী গৃহিণী ছিলেন। বাবা-মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে আনাস ছিলেন সবার বড়। তার ছোট দুই ভাই পাঁচ বছর বয়সী সাফওয়ান ও দুই বছর বয়সী সুফিয়ান। ঢাকার গেণ্ডারিয়া এলাকার দীননাথ সেন রোডে পরিবারসহ ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।
আরও পড়ুন: নবম পে-স্কেলে পেনশন বৃদ্ধি পাচ্ছে পাঁচ স্তরে, সর্বোচ্চ বাড়ছে ১০০ শতাংশ
আনাসের চিঠিতে যা লেখা ছিল
মৃত্যুর পর তার লেখা চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং হত্যাকারীর বিচারের দাবিতে সারাদেশে মানুষ ফুঁসে ওঠে। সেই চিঠিতে লেখা ছিল—‘মা, আমি মিছিলে যাচ্ছি। আমি নিজেকে আর আটকিয়ে রাখতে পারলাম না। সরি আব্বুজান। তোমার কথা অমান্য করে বের হলাম। স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে থাকতে পারলাম না। আমাদের ভাইরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে রাজপথে নেমে সংগ্রাম করে যাচ্ছে।
অকাতরে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। একটি প্রতিবন্ধী কিশোর, ৭ বছরের বাচ্চা, ল্যাংড়া মানুষ যদি সংগ্রামে নামতে পারে, তাহলে আমি কেন বসে থাকব ঘরে? একদিন তো মরতে হবেই। তাই মৃত্যুর ভয় করে স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে না থেকে সংগ্রামে নেমে গুলি খেয়ে বীরের মতো মৃত্যু অধিক শ্রেষ্ঠ। যে অন্যের জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেয় সে-ই প্রকৃত মানুষ। আমি যদি বেঁচে না ফিরি, তবে কষ্ট না পেয়ে গর্বিত হয়ো। জীবনের প্রতিটি ভুলের জন্য ক্ষমা চাই।’