শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন © সংগৃহীত
এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে শুরু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা মার্চে গড়িয়েছে। রমজান, মৌসুমি বৃষ্টি-বন্যা এবং পরবর্তী এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করতেই পরীক্ষার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত চীন সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ওই সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, এসএসসি পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু করার সম্ভাব্য সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষা মার্চে চলে গেছে। এসএসসি পরীক্ষা আরও পেছানোর সুযোগ আছে কি না?
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এক হাজারের বেশি স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। তারা রোজার আগেই, ঈদের আগেই পরীক্ষা শেষ করতে চেয়েছিলেন। সেই দিক বিবেচনা করে আমরা জানুয়ারির ৭ তারিখ থেকে শুরু করে ফেব্রয়ারির ৭ তারিখ এক মাস একটা সম্ভাব্য সময় ধরেছিলাম। ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখে রোজা শুরু হবে, মার্চের ১০ তারিখে শেষ হবে। আমাদের মেইন ভিউজ ছিল মনুসুন সিজনে রেইন, ফ্লাড হয়, এসএসসি পরীক্ষা বাধা গ্রস্ত হয়, এগুলোকে সিনক্রোইন করা। আমাদের প্রথমে এসএসসি, দেন এইচএসসি এরপর এডজাস্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, ফরেন যারা যায় এসবকে একটা জায়গায় নিসে আসা। সেই জায়গা থেকে সবচেয়ে সুইটেবল মান্থ হলো ফেব্রুয়ারি মাসে পরীক্ষা নেওয়া। কিন্তু রমজানের জন্য এটা সম্ভব হয় না। আমরা শেষে দেখলাম রোজার পরই হলে ভালো হয়। তবে পরীক্ষা পেছোনোর আর কোনো কারণ নেই।’
এর আগে চীন সফর শেষে পাঁচটি বড় অর্জনের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) খাতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে সফরে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল গত ২৬ থেকে ২৮ আগস্ট চীন সফর করে। প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া অংশগ্রহণ করেন।
সফরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল চীনের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বা টিভেট মডেল এবং এর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেওয়া। একই সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, আধুনিক কারিগরি গবেষণাগার ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা স্থাপন এবং চীনা ভাষার সহায়তাসম্পন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়।
সফরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ গ্রহণের সুযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশে কার্যরত চীনা শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।