যোগ্যতা ছাড়াই এমপিও, জাল সনদে চাকরি—কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম আছাদনগর ফাজিল মাদ্রাসায়

২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৭ PM , আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪২ PM
আছাদনগর ফাজিল মাদ্রাসা

আছাদনগর ফাজিল মাদ্রাসা © টিডিসি সম্পাদিত

নরসিংদীর মনোহরদীর আছাদনগর ফাজিল মাদ্রাসায় নিয়োগ বিধি লঙ্ঘন, জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদে চাকরি, শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ এবং সরকারি বেতন-ভাতা অবৈধভাবে গ্রহণের তথ্য উঠে এসেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে। এসব অনিয়মের ফলে প্রায় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এই টাকা আদায় করে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। 

সম্প্রতি আছাদনগর ফাজিল মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন ডিআইএর অডিট অফিসার চন্দন কুমার দেব। পরে প্রতিবেদনটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।’

প্রতিষ্ঠানটির জুনিয়র শিক্ষক শামসুন্নাহার এবং জুনিয়র মৌলভী মানসুরা আক্তারের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাই করে এনটিআরসিএ জানিয়েছে, তাদের রোল নম্বর উত্তীর্ণদের তালিকায় নেই এবং দাখিল করা প্রত্যয়নপত্র জাল। এ কারণে শামসুন্নাহারের গ্রহণ করা ১১ লাখ ২১ হাজার ১০০ টাকা এবং মানসুরা আক্তারের ১ লাখ ৯১ হাজার ৯০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের সব সরকারি বেতন-ভাতাও অপ্রাপ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া ডিআইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  আছাদনগর ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. আবদুর রাজ্জাকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজিতে ৩০০ নম্বর বাধ্যতামূলক থাকলেও তার ছিল মাত্র ১০০ নম্বর। ফলে তিনি আবেদন করারই যোগ্য ছিলেন না। তবুও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ পাওয়ার পর ২০০১ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত তিনি সরকারি কোষাগার থেকে ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার ৭৮ টাকা গ্রহণ করেছেন। এ অর্থ আদায় করে সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির সহকারী গ্রন্থাগারিক নেছার উদ্দীন আহমেদের নিয়োগের সময় তার গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের সনদ ছিল না। তবুও তাকে নিয়োগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে চাকরিরত অবস্থায় তিনি একটি ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। তবে সেই সনদও গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে ডিআইএ। ফলে চাকরিকালে বেতন-ভাতা বাবদ নেওয়া ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৪০২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করেছে ডিআইএ।

সহকারী শিক্ষক (বাংলা) আছমা বেগমের স্নাতক পর্যায়ে বিধি অনুযায়ী ৩০০ নম্বরের বাংলা বিষয় না থাকলেও তাকে এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে আনার সুপারিশ করেছে ডিআইএ।

প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায়ও একের পর এক অনিয়ম ধরা পড়েছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আছাদনগর ফাজিল মাদ্রাসায় ব্যয়ের বিপরীতে কর্তনযোগ্য ২১ হাজার ৭০৮ টাকা ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। সম্মানী খাতে উৎসে কর্তনযোগ্য ৭ হাজার ১০২ টাকা আয়কর জমা দেওয়া হয়নি। বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত ফি'র চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষা ও রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে আদায় করা হয়েছে। অর্থ ও ক্রয় উপকমিটি, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটি, বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়নসহ আর্থিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলোও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

প্রতিবেদনে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো- প্রতিষ্ঠানটির জুনিয়র শিক্ষক শামসুন্নাহার এবং জুনিয়র মৌলভী মানসুরা আক্তারের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাই করে এনটিআরসিএ জানিয়েছে, তাদের রোল নম্বর উত্তীর্ণদের তালিকায় নেই এবং দাখিল করা প্রত্যয়নপত্র জাল। এ কারণে শামসুন্নাহারের গ্রহণ করা ১১ লাখ ২১ হাজার ১০০ টাকা এবং মানসুরা আক্তারের ১ লাখ ৯১ হাজার ৯০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের সব সরকারি বেতন-ভাতাও অপ্রাপ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেতন স্কেলেও বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য পেয়েছে ডিআইএ। সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আরবি প্রভাষক মো. জহিরুল হক বিধি বহির্ভূতভাবে উচ্চতর স্কেল গ্রহণ করায় ৩ লাখ ২ হাজার ৮৭৩ টাকা, ইসলামের ইতিহাসের প্রভাষক মো. রফিকুল ইসলামের ক্ষেত্রে ৮৪ হাজার ২২৮ টাকা এবং কৃষি শিক্ষা শিক্ষক মো. রুহুল আমিনের ক্ষেত্রে ৮ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮৮ টাকা অতিরিক্ত গ্রহণ করেছেন। এই টাকা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে আলিম ও ফাজিল স্তরে উন্নীত হওয়ার জন্য জনবল কাঠামোর বাধ্যতামূলক শিক্ষার্থীসংক্রান্ত শর্ত পূরণ না হওয়ায় ওই স্তরের একাধিক প্রভাষক সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্য নন। তবুও তারা দীর্ঘদিন ধরে এমপিও সুবিধা গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

শুধু নিয়োগ বা বেতন নয়, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায়ও একের পর এক অনিয়ম ধরা পড়েছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আছাদনগর ফাজিল মাদ্রাসায় ব্যয়ের বিপরীতে কর্তনযোগ্য ২১ হাজার ৭০৮ টাকা ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। সম্মানী খাতে উৎসে কর্তনযোগ্য ৭ হাজার ১০২ টাকা আয়কর জমা দেওয়া হয়নি। বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত ফি'র চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষা ও রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে আদায় করা হয়েছে। অর্থ ও ক্রয় উপকমিটি, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটি, বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়নসহ আর্থিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলোও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে আছাদনগর ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জবিরুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। যাদের নামে অডিট আপত্তি এসেছে তাদেরকে বিষয়টি অবহিত করেছি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে তারাই জবাব দেবে।’

‘কমিটির টিম’ আখ্যা দেওয়ায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টি…
  • ২২ জুলাই ২০২৬
প্রাথমিক রোগ শনাক্তে ঘরে ঘরে যাবে স্বাস্থ্যকর্মীরা: স্বাস্থ…
  • ২২ জুলাই ২০২৬
সিনিয়র এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে নগদ লিমিটেড, আবেদন ২৯ জুলাই প…
  • ২২ জুলাই ২০২৬
মালয়েশিয়ায় ১০ তলা থেকে পড়ে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু
  • ২২ জুলাই ২০২৬
স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র শক্তিশালী হ…
  • ২২ জুলাই ২০২৬
ইসলামী ব্যাংকের ‘গ্রাহক সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত
  • ২২ জুলাই ২০২৬