শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন © সংগৃহীত
ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘চরফ্যাশনের ঘটনায় গতকাল রাতেই মামলা হয়েছে। তবে এখনো কারও নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়নি। আমাদের কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজ দেখে কারা ঘটনায় জড়িত ছিল এবং কে কী করেছে, তা শনাক্ত করা হবে। সিসিটিভি ক্যামেরা রাখার উদ্দেশ্যই হলো অপরাধীদের চিহ্নিত করা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’
এর আগে শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা শেষে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। নকল করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে কলেজের শিক্ষক, গভর্নিং বডির সভাপতিসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আইসিটি পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা ফটক ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে পেছনের ফটক ভেঙে এবং দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে ঢুকে অধ্যক্ষের কক্ষসহ বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর করেন। তারা পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন। শিক্ষকরা বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, ওই কেন্দ্রে ৯০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তারা সবাই চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। এমসিকিউ পরীক্ষার সময় কয়েকজন পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করলে কক্ষ পরিদর্শকেরা বাধা দেন। এরপর তারা শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষা শেষে একদল পরীক্ষার্থী সংঘবদ্ধ হয়ে কলেজে হামলা চালায়। এতে গভর্নিং বডির সভাপতি হুমায়ুন কবির সিকদারসহ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন। হামলাকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে কয়েকজন পথচারীও আহত হন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরীক্ষার্থী দাবি করেন, চরফ্যাশন সরকারি কলেজ ও ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের প্রভাব পরীক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। তাদের অভিযোগ, কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলে ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করতে না দেওয়ায় এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।