শিক্ষা মন্ত্রণালয় © টিডিসি সম্পাদিত
মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নতুন অর্থবছরে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করে বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ১২টি বিশেষ উদ্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
নতুন অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দ ও কার্যক্রমের এক আনুষ্ঠানিক বিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, সরকারের এই মহাপরিকল্পনার প্রথম ও অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হলো ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ (পিইডিপি-৫) গ্রহণ ও কার্যকর করা, যার মাধ্যমে নির্বাচনী ইশতেহারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার পরিধি বাড়াতে এবং দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সকল এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর স্থানীয় প্রয়োজন এবং গুরুত্ব বিবেচনা করে চাহিদাভিত্তিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরী ও নতুন শহর পূর্বাচলে নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, বিদ্যমান বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত আমূল পরিবর্তন এবং সেগুলোর নান্দনিক সৌন্দর্যবর্ধনে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করতে এবং তাঁদের মাঝে নেতৃত্বগুণ তৈরি করতে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘কাব-স্কাউটিং সম্প্রসারণ প্রকল্প (৪র্থ পর্যায়)’ বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ধরে রাখার জন্য দেশব্যাপী ‘সরকারি স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম’ বা স্কুল মিল কার্যক্রম চালু করা হবে।
ঝরে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মূল ধারায় ফেরাতে বিদ্যালয় বহির্ভূত কিশোর-কিশোরীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মমুখী ও দক্ষতাকেন্দ্রিক সাক্ষরতা প্রদানের জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি বিশেষ ভৌগোলিক বিষয় বিবেচনা করে কক্সবাজার, বান্দরবান পার্বত্য জেলা এবং নোয়াখালীর ভাসানচরের জন্য ‘প্রি-প্রাইমারি অ্যান্ড প্রাইমারি এডুকেশন ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ শীর্ষক একটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। মূল ধারার বিদ্যালয় থেকে ছিটকে পড়া বা কোনো কারণে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনতে বিকল্প শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে বিশ্বমানে উন্নীত করার লক্ষ্যে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি’ (নেপ)-এর সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ শীর্ষক আরেকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
আগামী প্রজন্মের উপযোগী আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রযুক্তি-নির্ভর প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ‘নেক্সটজেন প্রাইমারি এডুকেশন প্রোগ্রাম’ চালু করবে মন্ত্রণালয়। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক গঠন, খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ নিশ্চিত করতে দেশের নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর খেলার মাঠের সার্বিক উন্নয়ন সাধন করা হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, এই উন্নয়ন প্রকল্প এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় মেটাতে মোট ৪৬,৭৩৭,৯২,০০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বিশাল বরাদ্দের মধ্যে নিয়মিত পরিচালন খাতে ২৫,২৯৭,৩৪,০০ হাজার টাকা এবং সরাসরি উন্নয়ন খাতে ২১,৪৪০,৫৮,০০ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে।