শিক্ষা আইন, ২০২৬ খসড়া © টিডিসি সম্পাদিত
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা রাখে পরিচালনা পর্ষদ। আর বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদের প্রবিধানমালা অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি একাধিক দায়িত্ব পালনে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতি এসব দায়িত্বের বাইরে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করেন। যাতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন শিক্ষকরা।
এবার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটির হস্তক্ষেপের ক্ষমতা কমাতে শিক্ষা আইনে তাদের এখতিয়ারের সীমাবদ্ধতার কথা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত খসড়া আইনের ২২ ও ২৩ ধারায় এ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যবস্থাপনা কমিটি ও পরিচালনা কমিটি গঠন শীর্ষক ২২ ধারায় বলা হয়েছে, ‘‘সকল ধারার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্তর অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবস্থাপনা কমিটি বা, ক্ষেত্রমতো, পরিচালনা কমিটি গঠন করিতে হইবে; বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি, পরিচালনা কমিটি, এডহক কমিটি, শিক্ষক-অভিভাবক পরিষদের গঠন, মেয়াদ, কার্যপরিধি ও অন্যান্য শর্ত বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।’’
এছাড়া কমিটির এখতিয়ারের সীমাবদ্ধতা শীর্ষক ২৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটি বা, ক্ষেত্রমতো, পরিচালনা কমিটি, বা উহার চেয়ারম্যান বা সভাপতি নির্ধারিত এক্তিয়ার বা কার্যপরিধির বাহিরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন প্রশাসনে বা পাঠদানে হস্তক্ষেপ বা এক্তিয়ার প্রয়োগ করিবেন না; ব্যবস্থাপনা কমিটি বা, ক্ষেত্রমতো, পরিচালনা কমিটি, বা উহার চেয়ারম্যান বা সভাপতি নির্ধারিত এক্তিয়ার বা কার্যপরিধির বাহিরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন প্রশাসনে বা পাঠদানে হস্তক্ষেপ বা এক্তিয়ার প্রয়োগ করিবার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনে কোনো অনিয়ম বা পাঠদান বাধাগ্রস্ত হইলে কমিটি সার্বিকভাবে, বা, ক্ষেত্রমতো, উহার চেয়ারম্যান বা সভাপতি দায়ী হইবেন; এবং নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ উক্ত কমিটি বাতিল বা, ক্ষেত্রমতো, উহার চেয়ারম্যানকে বা সভাপতিকে অপসারণ করিতে পারিবে।’’
জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর পর অন্তর্বর্তী সরকার মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে সম্প্রতি শিক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘শিক্ষা আইন, ২০২৬’ এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এই খসড়া প্রকাশ করে জানিয়েছে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে opinion_edu_act@moedu.gov.bd এই ইমেইলে এই আইনের খসড়ার ওপর মতামত পাঠাতে হবে।
প্রস্তাবিত এই আইনকে ১১টি অধ্যায় এবং ৫৫টি ধারায় বিন্যস্ত করা হয়েছে। জনগণের মতামতের পর তা চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার জানিয়েছেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে শিক্ষাকে নাগরিকের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।