পাঠ্যবইয়ে ৭ মার্চের ভাষণ প্রত্যাহারের প্রস্তাবে এনসিটিবির ‌‘না’, হচ্ছে সংক্ষেপন

১৮ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৫২ PM , আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৩৪ AM
৭ মার্চের ভাষণ ও এনসিটিবি লোগো

৭ মার্চের ভাষণ ও এনসিটিবি লোগো © ফাইল ছবি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ পাঠ্যবই থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। তবে পূর্ণাঙ্গ ভাষণের পরিবর্তে সংক্ষেপিত রূপ শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। 

সোমবার (১৮ আগস্ট) এনসিটিবি কার্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক অনুমোদন নিয়ে আয়োজিত সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। যদিও এর আগে ৮ম শ্রেণির বই থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর পরিচালিত পুস্তক পর্যালোচনাকারী শ্রেণি শিক্ষকবৃন্দ। এছাড়াও সভায় জুলাই আন্দোলন নিয়ে লিখিত ‘আমাদের নতুন গৌরব গাঁথা’ প্রবন্ধে খণ্ডিত চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি গণহত্যার ইতিহাস থেকে ‘সুকৌশলে’ শেখ হাসিনার নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন প্রস্তাবকারী।

ওই সভায় উপস্থিত এক শিক্ষক জানান, তিনিসহ কয়েকজন ৮ম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে ৭ মার্চের ভাষণটি রাখার যৌক্তিকতা নেই বলে তা সরাতে বলেছেন। তবে কয়েকজন এটি সংক্ষেপিত রূপে রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর রবিউল কবীর চৌধুরী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘৮ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে আগেও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছিল। এটি সংক্ষিপ্ত আকারে রাখা হবে। একাদশ শ্রেণির বইয়ের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার প্রযোজ্য হবে। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা উপদেষ্টা জানাবেন।’ 

শেখ হাসিনার নাম গোপনের চেষ্টা
নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য অংশে অন্তর্ভুক্ত ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ গদ্যটি নিয়ে সংশোধন ও পরিমার্জনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবকারী মনে করছেন, গদ্যটিতে সাবেক স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম কৌশলে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, ‘আমাদের নতুন গৌরব গাঁথা’ প্রবন্ধে জুলাইয়ের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ করেছেন সংশোধনের প্রস্তাবকারী। প্রস্তাবকারীর মতে, এতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও বাস্তব চিত্র বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অপরাধী ও অনুঘটকদের নাম ও কার্যকলাপ চতুরতার সঙ্গে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। গদ্যে ব্যবহৃত কিছু শব্দ পরিবর্তনেরও দাবি জানিয়েছেন প্রস্তাবকারী। যেমন—‘শাসক’, ‘দুর্বৃত্তবাহিনী’, ‘তার আছে দলীয় বাহিনী’ এবং ‘আন্দোলনকারী ছাত্র জনতা’ শব্দগুলোর পরিবর্তে যথাক্রমে ‘স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা’, ‘আওয়ামী লীগ’ এবং ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী’ ব্যবহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অভিযোগকারী বলছেন, বিস্ময়কর মুন্সিয়ানায় রচনাটিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম সুকৌশলে গোপন করা হয়েছে। এই রচনা পড়ে একদমই বোঝার উপায় নেই যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল শতাব্দীর ঘৃণ্যতর ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। অধিকন্তু এতে জুলাইয়ের খণ্ডিত চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষত ফ্যাসিবাদী সরকারের নৃশংসতা, মানুষের বিস্ময়কর বিস্ফোরণ ও অনন্য বৈপ্লবিক মুহূর্তের ঝাঁজ রচনাটিতে পুরোমাত্রায় অনুপস্থিত। এর সাহিত্যমানও যথেষ্ট লঘু।

বেশি পরিবর্তনের প্রস্তাব নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে
পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ৮ম শ্রেণির বইয়ে ৭ মার্চের ভাষণ ছাড়াও হুমায়ুন আজাদ, আব্দুল গাফফার চৌধুরীর ‘মতো লেখকদের লেখা’ পর্যালোচনার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে।

নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য অংশের ‘রহমানের মা’ পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ‘রহমানের মা’ বাংলাদেশের ধর্মীয় অনুভূতির সাথে সাংঘর্ষিক এবং পাঠ্য বইয়ের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত করে এমন কনটেন্ট দেওয়া যাবে না। গল্পটি স্পর্শকাতর। এখানে মুখের নিকাব খুলে ফেলার মধ্য দিয়ে শহীদ জননীর গৌরব ও ব্যক্তিত্বের অভিপ্রকাশকে প্রতিকায়িত করা হয়েছে। স্পষ্টতই এটি 'গৌরব' ও 'বোরখা'র মধ্যে এক ধরনের বিরোধ কল্পনা করে। গল্পটি এ-ও প্রস্তাব করে যে, নিকাব খুলে ফেলা ব্যতীত নারীর গৌরব ও আত্মসম্মান ধরা পড়ে না। নিঃসন্দেহে এটি বাংলাদেশের বৃহত্তর মুসলমান জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, জীবনাচরণে ও ধর্মবোধের সাথে সাংঘর্ষিক। এর পরিবর্তে এ সংক্রান্ত অন্য গল্প যুক্ত করা যেতে পারে। 

একই বইয়ের ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’ এই নাটকের চেয়ে সাবলীল শুদ্ধ ও রুচিশীল এবং ভাষাতাত্ত্বিক অনেক ভালো নাটক আছে সেগুলোকে এখানে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।  অশ্রাব্য এবং কটু ভাষা, বাক্যের জন্য এটাকে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নাটকটির সংলাপে বেশ কিছু গালি ব্যবহার করা হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি স্বভাবতই অস্বস্তি তৈরি করবে। উপরন্তু নাটকটি সাহিত্যিক মানদণ্ডে অদ্বিতীয় মূল্য ও তাৎপর্য বহন করে না বলে জানিয়েছেন প্রস্তাবকারী। 

ক্যাম্পাসের হলে রোজা পালন, মায়ের কাছে ফেরা-ই যেন স্বস্তি
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
যে পাঁচটি জিনিস বলে দেবে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক কোন পথে
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা, ঘটনা নিশ্চিত করেছে জাত…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
১০ বছর বয়সী মাদ্রাসা ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষক…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
স্বপ্নপূরণে ঈদে বাড়ি ফিরছেন না বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক …
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
‘আমার কথা-কাজে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence