শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবি
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। শনিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীত পাশে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তবে রবিবারের মধ্যে তাদের দাবি মেনে না নিলে সোমবার থেকে টানা অনশন কর্মসূচিতে যাবেন তারা।
জানা যায়, দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে চলতি মাসের ১০ তারিখ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এবং শুক্রবার রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা।
এদিকে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। সকাল থেকে বৃষ্টি হলেও দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষক-কর্মচারীরা খোলা আকাশের নিচে অনশন করছেন। তারা বলছেন, দাবি পূরণ করেই তারা বাড়ি ফিরবেন।
শনিবার বিকালে ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল, তবে বৃষ্টির কারণে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কর্মসূচি সমাপ্ত করা হয়। তিনি বলেন, রবিবার পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি এমপিওভুক্তি স্পষ্ট ঘোষণার অপেক্ষায় থাকবো। অন্যথায় সোমবার থেকে আমরা টানা অনশন যেতে বাধ্য হবো।
এর আগে একই দাবিতে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করেন তারা। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ৫ দিন এ কর্মসূচি পালন করে ৩১ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার অনশনে যান তারা। এসময় অনশনে অংশ নেয়া অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। টানা অবস্থান ও অনশনের এক পর্যায়ে ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তার তৎকালীন একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান সেখানে গিয়ে আশ্বাস দেন।
পরে শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। এরপর সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বলা হয়েছে আসন্ন অর্থ বছরে নতুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে। কিন্তু চলতি মাসের ৭ তারিখ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আসন্ন ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের যে বাজেট প্রস্তাব করেন, সেখানে তিনি নতুন এমপিওভুক্তির বিষয়ে সুষ্পষ্ট কোন কিছু ঘোষণা দেননি। এরই প্রেক্ষিতে ১০ তারিখ থেকে ফের আন্দোলনে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী।