এসএসসির খাতা
খাতা মূল্যায়নের প্রতীকী ছবি © এ আই দিয়ে তৈরি করা ছবি
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ‘ওভার নাম্বারিং-আন্ডার নাম্বারিং’ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষকের ত্রুটি বা অপরাধ প্রমাণিত হলে শিক্ষকরা ৫ বছরের শাস্তির মুখে পড়তে পারেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী দেশে আসার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি তদন্ত করে দেখবে, খাতাগুলো কে কে দেখেছেন। তখন সংশোধিত আইন অনুযায়ী কেউ যদি অনুচিত নাম্বারি করে অর্থ্যাৎ বেশি অভার মার্কিং বা আন্ডার মার্কিং করে, তখন বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে সেই শিক্ষকের সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল হতে পারে।
এর আগে গত ৭ জুলাই জাতীয় সংসদে অনুমোদিত সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনে বলা হয়, পাবলিক পরীক্ষার ফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং বা অবৈধভাবে পরিবর্তন করাকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ শিরোনামে নতুন অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষায় সংগঠিতভাবে পরীক্ষা জালিয়াতি বা চক্র গঠন করলে কঠোর শাস্তি এবং জরিমানার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা কর্তৃক দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬।’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাশ করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।
পরে গত ১১ আগস্ট শুরু হয়ে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করার সুযোগ ছিল। এতে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করে। তাদের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীও ছিল।
একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। তাই পরীক্ষার্থীর তুলনায় পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা উত্তরপত্রের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।
সব মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। অর্থাৎ মোট আবেদন করা উত্তরপত্রের সংখ্যা ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি।
পরে আজ বৃহস্পতিবার পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাশ করেছে। এ ছাড়া নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। বিভিন্ন বিষয়ে আরও অনেক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে।