রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে © সংগৃহীত
১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল রবিবার থেকে পবিত্র রবিউস সানি মাস গণনা করা শুরু হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উদযাপিত হবে।
আজ (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, এমপি।
‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ বলতে রবিউস সানি মাসের ১১তম দিনকে বোঝায়। এটি আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর স্মরণে পালিত হয়। ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম হলো আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর ওফাত দিবস। হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি তিনি ইন্তেকাল করেন।
এদিন সরকারি কোনো ছুটি নেই। ২০২৬ সালের ছুটির তালিকায়ও ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে কোনো ছুটি দেখা যায়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এক নির্দেশনায় ২৪ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করেছে মন্ত্রণালয়। অর্থাৎ ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি থাকবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
বন্ধ থাকছে মাদ্রাসাও। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালের ছুটির তালিকায়ও আছে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটি। ২৪ সেপ্টেম্বর ছুটি লেখা থাকলেও উল্লেখ করা হয়েছে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে। সে হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ছুটি থাকছে ২৩ সেপ্টেম্বর।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমে কি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ?
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্তশাসিত হওয়ায় পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। ফলে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এ উপলক্ষে ছুটি থাকে না। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় দিবসটিতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখে, আবার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলতে দেখা যায়।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামা বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি রাখা হয়েছে। তবে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে ভিন্ন চিত্রও দেখা গেছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এদিন ছুটি না দিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে।
তাই আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম কী, কেন
‘ইয়াজদাহম’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো। ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম বলতে ১১তম দিনকে বোঝায়। এই ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) এর স্মরণে পালিত হয়।
ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধর্মনেতা হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) এর নাম প্রত্যেক মুসলমানের কাছে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে তার প্রভাব অপরিসীম। তার জীবনী ও কীর্তিগাথা মুসলমানদের হৃদয়ে চিরদিন জীবন্ত হয়ে থাকবে।
একজন আদর্শ পুরুষ হিসেবে বিশ্ব জগতে মুসলমানদের কাছে হজরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) কে পরম ভক্তি, শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরকাল স্মরণ করবে। পৃথিবীতে আল্লাহ পাকের প্রেরিত নবী-পয়গম্বর এসেছেন ১ লাখ বা ২ লাখ ২৪ হাজার।
অন্যদিকে কামেল পীর, অলি, দরবেশ, ফকির যে কত এসেছেন তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু সব পীর, ফকির, দরবেশ, অলির সেরা ছিলেন হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর ওফাতের প্রায় ৫০০ বছরপর জন্মগ্রহণ করেন। তখন ইসলাম ধর্ম এক নাজুক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছিল।
পবিত্র কুরআন ও আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ)- এর আদর্শ ভুলে মানুষ বিপথে পা বাড়িয়েছিল, ঠিক এমনই সময় হজরত বড়পীর ইসলামের পথে মানুষকে ডাক দিয়েছিলেন।
হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)-এর বাবার নাম সৈয়দ আবু সালেহ এবং মায়ের নাম বিবি ফাতেমা। হজরত আবদুল কাদের জিলানি (রহঃ) ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাগদাদের মহান পীর হজরত আবু সাঈদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন মাখরুমির (রহঃ) কাছে মারেফাতের জ্ঞানে পূর্ণতা লাভ করেন।