পাটের আঁশে তৈরি দুর্গা প্রতিমা © ফাইল ফটো
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌর সদরের উত্তর মুরারীকাটি পালপাড়ার পূজামণ্ডপে তৈরি হয়েছে এক অনন্য দুর্গা প্রতিমা। দেশের ঐতিহ্যের গর্ব ‘সোনালি আঁশ’ পাট দিয়ে বানানো হয়েছে এ প্রতিমা, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। এতে খরচ হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। তবে এর দুই সপ্তাহ আগেই পালপাড়া মণ্ডপে ভিড় জমাচ্ছেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ঝলমলে আলোয় প্রতিমার গায়ে আঁশের ঝিলিক দূর থেকেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে সাজানো ১২টি প্রতিমার কাঠামো—দুর্গা, কার্তিক, গণেশ, সরস্বতী, লক্ষ্মী, অসুর ও মহিষাসুর। রঙের ব্যবহার খুব সামান্য, পাটের আঁশের প্রাকৃতিক সোনালি আভাই প্রতিমাগুলোকে দিয়েছে আলোকোজ্জ্বল রূপ।
প্রতিমাশিল্পী প্রহ্লাদ বিশ্বাস জানান, ২১ জুলাই থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন তাঁরা। কাঠ, বাঁশ, মাটি ও পাট দিয়ে কাঠামো তৈরি শেষে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ধরে বসানো হয়েছে আঁশের টুকরা। শুধু আঁশ বসাতেই লেগেছে পাঁচ দিন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে সোনালি আঁশ দিয়ে প্রতিমা তৈরির এটি প্রথম উদাহরণ। এর আগে ২০২৩ সালে একই মণ্ডপে চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছিল, যা ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
আরও পড়ুন: একাদশের চতুর্থ ধাপের আবেদন শুরু রবিবার
পালপাড়া পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পালাশ কুমার পাল বলেন, `১৯৮৩ সাল থেকে এখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে আমরা ভিন্ন আঙ্গিকে প্রতিমা তৈরি করছি, যাতে দর্শনার্থীরা আনন্দ পান।' তিনি জানান, এ বছর প্রতিমায় ব্যবহার হয়েছে ৫০ কেজি পাটের আঁশ, খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা। পূজার পাঁচ দিনে খরচ হবে আরও দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবাসীরা এ ব্যয় বহন করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শম্ভু পাল বলেন, `পাট দিয়ে প্রতিমা এত সুন্দর হতে পারে, না দেখলে বিশ্বাসই করা যায় না। সোনালি ঝলক চোখ জুড়িয়ে দেয়।'
সাতক্ষীরা জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি স্বপন শীল জানান, এ বছর জেলায় মোট ৫৯১টি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি হয়েছে। তবে কলারোয়ার মুরারীকাটি, দেবহাটার পারুলিয়া ও সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুরের প্রতিমাগুলো বিশেষভাবে ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক।