ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগে সন্ত্রাস রয়েছে, দানব রয়েছে। এদের সন্ত্রাসের কালো হাত ভেঙ্গে দিতে হবে। এছাড়া একটার পর একটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ককটেল বিস্ফোরণ হয়ে আসছে। একসময়ের রাজনীতির আঁতুরঘর এখন ককটেল বিস্ফোরণের আঁতুড়ঘর হয়ে গেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য ক্যাম্পাসে আসতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী, শিক্ষকমন্ডলীসহ সবাই তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
আজ মঙ্গলবার (৩১শে ডিসেম্বর) ডাকসুতে হামলার তদন্ত ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন ছাত্রনেতারা।
.jpg?1577786053645)
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিসিএলের সভাপতি শাহজাহান আলী সাজু, সাধারণ সম্পাদক গৌতম শীল, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ফারুক আহমেদ রুবেল, বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইউনুস শিকদার ইমনসহ প্রায় এক শত নেতাকর্মী। এ সময় তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মধুর ক্যান্টিনের সামনে এসে সমবেত হোন।
ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে ‘দানব’ মন্তব্য করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিসিএল’র সভাপতি শাহজাহান আলী সাজু বলেছেন, ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগে সন্ত্রাস রয়েছে, দানব রয়েছে। এদের সন্ত্রাসের কালো হাত ভেঙ্গে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের এনআরসি’র বিরুদ্ধে ডাকসু ভিপির প্রতিবাদ সমাবেশে দুই দলের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে গত ২২ ডিসেম্বর ডাকসুতে হামলা করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এবং ছাত্রলীগ। ঠিক এরকম অনৈতিক এবং দুর্নীতির দায়ে কিছুদিন আগে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের সভাপতি শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক রাব্বানীকে প্রধানমন্ত্রী তাদের পদ থেকে বহিষ্কার করেন। তাদের অনৈতিক কার্যক্রম এবং হামলা-সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় জর্জরিত। সকল অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
ছাত্রলীগ বিসিএল’র সভাপতি বলেন, এ ক্ষেত্রে ভিপি নুরেরও সমস্যা রয়েছে। সে ছাত্রদের অধিকার বাদ দিয়ে জাতীয় রাজনীতি নিয়ে পড়ে আছেন।
.jpg?1577786077275)
ছাত্রলীগ বিসিএলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহফুজুর রহমান রাহাত বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি পবিত্র জায়গা। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে সে বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে একটি মহল অরাজকতা চালিয়ে যাচ্ছে। ডাকসু ভিপির উপর হামলার পর থেকে অরাজকতা চলছে এবং একটার পর একটা ককটেল নিক্ষেপ, বিস্ফোরণ এবং সংঘর্ষ চলে আসছে। যত হামলা-মামলা সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে সবাইকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল, মত, ধর্ম হয় না। সন্ত্রাসী মানে সন্ত্রাসী।
বক্তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরী করছে। ২২ ডিসেম্বরের পর থেকে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সে পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে একটার পর একটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ককটেল বিস্ফোরণ হয়ে আসছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলেছিলাম, যে সব ছাত্র সংগঠন আছে সেগুলোকে নিয়ে বসে আলোচনা করে উদ্ভুত সমস্যার একটা সুরাহা করার জন্য। আমাদের প্রক্টর পরিবেশ পরিষদের সমাবেশ তো ডাকলেনই না, উপরন্তু এর পরবর্তী দিনে আমরা দেখলাম বারবার ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ককটেল বিস্ফোরণের আঁতুড়ঘর হয়ে গেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য যে ক্যাম্পাসে আসবে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী, শিক্ষকমন্ডলী সহ সবাই তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
নেতাকর্মীরা তাদের বক্তব্যে আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল রাজু ভাস্কর্যে দুই দলের মারামারি, হামলা এবং ডাকসুতে হামলার ফুটেজ দেখে তাদেরকে সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা। কিন্তু প্রশাসন তা করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
প্রশাসনের গা-ছাড়া মনোভাবের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে এই অরাজকতা বন্ধে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করেন তারা। আজ বছরের শেষ দিন নতুন বছরের শুরু থেকে যাতে এ ধরনের আর কোনো হামলা মামলা সংঘর্ষের সৃষ্টি না হয় সেদিকে প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানান তারা।