ডাকসু ভিপি নুরুল হকদের ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠা প্ল্যাটর্ফমটিকে শিবিরের ছাত্র সংগঠন আখ্যা দিয়ে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা দেন ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে এর উপযুক্ত জবাব দেয়ার জন্য শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মীদের প্রতি আহবান জানান তিনি।
সোমবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ উপলক্ষে ‘গণতন্ত্র বিজয় দিবস’ পালন করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিজয় র্যালি বের করে ছাত্রলীগ। র্যালি পরবর্তী দুপুরে রাজু ভাস্কর্যে আয়োজিত সমাবেশে এ ঘোষণা দেন সনজিত চন্দ্র দাস। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ও ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসু এজিএস সাদ্দাম হোসেন।

ডাকসু ভিপি নুরকে অভিনেতা আখ্যা দিয়ে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি বলেন, তথাকথিত অভিনেতা ডাকসুর ভিপি নুরুল হক ইতিমধ্যে তাঁর কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করেছে। তাকে আমরা বলে দিতে চাই— অভিনয় যদি করতে হয় তাহলে রঙ্গমঞ্চ-নাট্যমঞ্চে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ধরনের অভিনয় চলবে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মূর্খ নয়। তারা বুঝতে পারে আপনি কেন এই ধরনের অভিনয় করেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিপি নুরদের সংগঠনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা দিয়ে সনজিত বলেন, টাকা উপার্জনের জন্য বিকাশের নাম্বার দেন আবার ১৩ কোটি, ১৪ কোটি, ১৫ কোটি টাকার টেন্ডারবাজি করেন। আবার বিকাশের মাধ্যমে বলেন, আপনাদেরকে সহজে কাউকে সহযোগিতা করার জন্য। আর তথাকথিত শিবিরের ছাত্র সংগঠন হলো বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ। আমরা এই সংগঠনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম। তারা যদি এ ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এর উপযুক্ত জবাব আপনারা দিবেন।
ছাত্রদলকে হুশিয়ারি দিয়ে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি বলেন, আমরা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে দিতে চাই— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি কোন ককটেল বানানো রাজ্যের ঘটনা ঘটে, তাহলে ক্যাম্পাসে স্বাধীনতাবিরোধী কোন শক্তির অবস্থান থাকতে দিবো না। যদি কোন অন্যায় করেন তাহলে শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতারা সেটার জন্য উপযুক্ত শাস্তি দিতে প্রস্তুত রয়েছে। আপনাদের বলে দিতে চাই— এই চোরাগুপ্তা হামলা কেন, যদি শক্তি থাকে রাজপথে আসুন, রাজপথে মোকাবেলা হবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা শুধু আওয়ামী লীগের নেত্রী নয়, তিনি প্রত্যেকটি দিনমজুর মানুষের নেত্রী। দেশের প্রতিটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার অগ্রপথিক। এই কারণে আপনারা দেখেছেন তাঁর যে বিজয় হয়েছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে নিরঙ্কুশ বিজয়।
সনজিত বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ যখন দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তখন জঙ্গিমাতা খালেদা জিয়া, তারেক জিয়ার নেতৃত্বে মধুর ক্যান্টিনসহ বিভিন্ন জায়গায় তারা ককটেল ফাটিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মত একটি সুন্দর জায়গাকে তারা অপবিত্র করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের বলে দিতে চাই— আমাদের ভদ্রতার কিন্তু সীমা রয়েছে। আপনারা যদি আমাদের দুর্বল মনে করেন সেটি আপনারা ভুল করবেন। মনে রাখবেন, আমরা মুজিব সৈনিক। আপনারা যদি গণতান্ত্রিক পরিবেশ চান আপনারা আসুন। কিন্তু গণতান্ত্রিক চর্চা আপনারা কিভাবে করবেন, আপনাদের তো কোনো গণতান্ত্রিক নেতা নেই। শিক্ষিত কোন নেতা নেই। আপনাদের সচেতনতাবোধ রয়েছে অথবা চেতনা রয়েছে এমন কোন নেতার প্রকাশ আমরা দেখি না। তারা দিনে ঘুমায় রাতে ভিডিও কলের মাধ্যমে রাজনৈতিক নির্দেশনা দেয়।