মুক্তিযোদ্ধাদের পানি খাওয়াইছি; আজ তাদের ছেলেরাই আমার সন্তানকে পেটায়

২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:০০ PM

রাষ্ট্র ও সরকারের কাছে ডাকসু ভিপি নুরুল হক ও তাঁর সহযোগীদের উপর হামলার বিচার চেয়ে নুরের বাবা বলেছেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের পানি খাওয়াইছি, আজ তাদের ছেলেরাই আমার সন্তানকে পেটায়। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে সংহতি জানিয়ে এই কথা বলেন তিনি। 

ছেলের করুণ অবস্থার কথা বর্ণনা করে তিনি বলেন, আমি যতটুকু জানি- নুরুল হক সারাদেশের ছাত্র সমাজের অভিভাবক। তাকে হামলার ৪/৫ দিন আগে আমি ঢাকায় এসেছি। তার করুণ অবস্থা দেখে আমি বাবা হয়ে ধৈর্য রাখতে পারছি না। আরও কয়েকজন ছাত্র নেতাসহ তারা হাসপাতাল বেড়ে রয়েছে।

স্বাধীনতা যুদ্ধে বিভিন্নভাবে সহযোগিতার কথা স্মরণ করে নুুরের বাবা বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সময় আমার বয়স ১৬/১৭ বছর। তখন মুক্তিযুদ্ধোদের পানি খাওয়ানোর কাজ করতাম আমরা। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করতাম। কিন্তু আজ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নাম দিয়ে আমার সন্তান ও ছাত্রনেতাদের উপর যে নৃসংশ হামলা হচ্ছে তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিচারের আশ্বাস পাওয়া কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানকের সঙ্গে হাসপাতালে আমার দেখা হয়েছে। তাকে হাসপাতালে আহত সন্তানদের দেখিয়েছি। নানক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই আশ্বাস দিয়েছেন- হামলাকারীর দল পরিচয় না দেখে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য। 

ডাকসু ভিপি নুর ও তাঁর সহযোগীদের ওপর হামলায় ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের দোষী নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের দাবিতে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাবি প্রক্টরকে হামলার দায়ভার নিয়ে পদত্যাগ ও ডাকসুর সিসিটিভির ফুটেজ উদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছে।

এই দাবিগুলো আদায় না হলে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেয়া হয়েছে ছাত্র-জনতা সমাবেশ থেকে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্য’র ব্যানারে ছাত্র-জনতার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে ডাকসু সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন এই দাবিগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে পেশ করেন।

ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে সংহতি জ্ঞাপন করেন, ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পার্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদাউস, আলোকচিত্রী শহীদুল আলম, ঢাবি শামসুন্নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনীম আফরোজ ইমি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকী, জাতীয় গণফ্রন্ট-এর সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, জাসদ ছাত্রলীগ, মুক্তিফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল), সমাজতন্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, স্বতন্ত্রজোটের ডাকসুর ভিপি প্রার্থী অরনি সেমন্তী খান।

প্রসঙ্গত, গত রোববার দুপুরে রড, লাঠি ও বাঁশ নিয়ে ভিপি নুরুলের ওপর হামলা চালান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতা-কর্মীরা। এ সময় নুরুলের সঙ্গে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও কয়েকটি কলেজের কিছু ছাত্রসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা তুহিন ফারাবীর অবস্থা গুরুতর। তাঁকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবস্থায় রাখা হয়েছিল। গতকাল শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিয়ে আসা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

রংপুরে চার খুনের মামলার এজহারে যা আছে
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
ডাকসুর সাহিত্য পত্রিকার প্রথম সংখ্যা ‘আভাস’-এর মোড়ক উন্মোচন
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষার্থীর সন্তানকে কোলে নিয়ে পুরো পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
সোয়া কোটি নয়, ১০ মাসে রাকসুর ব্যয় ৬৪ লক্ষ টাকা
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
ময়মনসিংহে ভেটেরিনারি চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে হাবিপ্র…
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
আমি বাংলাদেশি—নাগরিকত্ব নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পররা…
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬