ডাকসু ভিপি নুর ও তাঁর সহযোগীদের ওপর হামলায় ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের দোষী নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের দাবিতে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাবি প্রক্টরকে হামলার দায়ভার নিয়ে পদত্যাগ ও ডাকসুর সিসিটিভির ফুটেজ উদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছে।
এই দাবিগুলো আদায় না হলে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেয়া হয়েছে ছাত্র-জনতা সমাবেশ থেকে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্য’র ব্যানারে ছাত্র-জনতার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে ডাকসু সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন এই দাবিগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে পেশ করেন।
হামলার প্রতিবাদে ছাত্রজনতার সমাবেশে সংহতি জানিয়েছেন দৃক ফটো গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও আলোকচিত্রী শহীদুল আলম। তিনি বলেন, এ সময় বুক ফুলিয়ে আপনারা এরকম সকলের সামনে এসে প্রতিবাদ করছেন। এটা অত্যন্ত প্রয়োজন ছিলো। যে সময়ে সারাদেশের মানুষ ভয় পাচ্ছে, একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় আবরারের মতো ছেলে মারা গেছে এবং আবার এই দিন শুরু হয়ে যাচ্ছে প্রকাশ্যে যেখানে এগুলো শুরু হচ্ছে, সেখানে আমরা যে সকলে সেভাবে ভয় পাই না সেটা বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। এবং আপনারা সেই প্রতীক, আপনারা সেই সাহস এবং আপনার সেই ভবিষ্যৎ। আমি আপনাদের সম্মান জানাই।
এদিকে ডাকসু ভিপির কক্ষে নুরুল হক ও তাঁর অনুসারীদের উপর ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের হামলার আগ মুহূর্তের একটি ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। সেখানে উপস্থিত কেউ একজন মোবাইলে ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
৪২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সিনেট সদস্য সনজিত চন্দ্র দাস এবং ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও এজিএস সাদ্দাম হোসেনকে নুরুল হকদের সঙ্গে তর্ক করতে দেখা যাচ্ছে। এসময় ডাকসু ভবনে ভিপির কক্ষে থাকা ছাত্রলীগের ওই দুই নেতার অনুসারীদেরও চিৎকার ও হুমকি দিতে শোনা যায়। তখন নুর-রাশেদের সঙ্গে থাকা অনুসারীরাও চিৎকার ও প্রতিবাদ করছিল।
উভয় পক্ষের মধ্যে বিতর্কের একপর্যায়ে নুরুল সনজিতকে বলেন, ‘আপনি তো ডাকসুর কেউ না। আপনি কেন এখানে এসেছেন।’ সনজীত তখন বলেন, ‘আমি কে, তা কিছুক্ষণ পরেই বুঝবি।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এই ঘটনার পরপরই ভিপির কক্ষের আলো নিভিয়ে নুরদের উপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।
হাসপাতালে ভর্তি নুরুল হক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেন, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিদ ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম এবং তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামক ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী মঞ্চের সভাপতি বুলবুল ও মামুনের নেতৃত্বে আমাকে হত্যাচেষ্টায় ডাকসুতে ৩ দফা আমার উপর হামলা চালানো হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হকের ওপর হামলার পর এবার ডাকসু ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হয়ে গেছে। কে বা কারা ফুটেজগুলো গায়েব করল, সে ব্যাপারে কোনো ধারণা নেই কর্তৃপক্ষের।
গত রোববার দুপুরে রড, লাঠি ও বাঁশ নিয়ে ভিপি নুরুলের ওপর হামলা চালান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতা-কর্মীরা। এ সময় নুরুলের সঙ্গে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও কয়েকটি কলেজের কিছু ছাত্রসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা তুহিন ফারাবীর অবস্থা গুরুতর। তাঁকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবস্থায় রাখা হয়েছিল। গতকাল শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিয়ে আসা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।