দুই ঘণ্টার চরম ভোগান্তির পর নীলক্ষেত মোড় অবরোধমুক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে নানা স্লোগানে চারদিক মুখরিত করে রাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। দুপুর দেড়টার কিছু সময় আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাবি-দাওয়া পূরণের ব্যাপারে আলোচনায় বসবেন- এ শর্তে আপাতত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করে রাস্তায় যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়।
শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধের এ কর্মসূচির ফলে আজিমপুর ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে ছেড়ে আসা কয়েকশ বাস, মাইক্রোবাস, জিপ, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেল রাস্তায় আটকা পড়ে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে টানা দুই ঘণ্টা একই স্থানে আটকে থাকায় অনেকেই তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
রাজধানীর জিগাতলার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ জানান, তার এক অসুস্থ আত্মীয়কে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সামনে এসে অ্যাম্বুলেন্স আটকা পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগে-পিছে এত গাড়ি আটকে পড়ে যে অসুস্থ রোগী নিয়ে যাওয়ার তার কোনো উপায় নেই। নিরূপায় হয়ে তিনি গাড়িতেই বসে থাকেন।
স্কুল ছুটির পর ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে আজিমপুর ফেরার পথে বলাকা সিনেমা হলের সামনে আটকা পড়েন রেজওয়ানুর রহমান। গরমে ওই শিশু দর দর করে ঘামছিল।
রেজওয়ানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা কয়েকদিন পরপর আন্দোলনে নামে আর সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হয়। তাদের দাবি ন্যায্য হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেনে নেয়া উচিত। এভাবে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেয়ার কোনো মানে হয় না।
রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অবরোধ ও বিক্ষোভের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী বৈশাখী পরিবহনের একটি বাস আটকে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তা ছেড়ে দিতে বললেও রাজি হয়নি আন্দোলনকারীর। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
দ্রুত ফল প্রকাশসহ বিভিন্ন দাবিতে এবং ‘গণহারে ফেল’ করানোর প্রতিবাদে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে ওই সড়ক দিয়ে সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এসয় দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান নেন। এসময় তারা অভিযোগ করেছেন, ভালো পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে গণহারে ফেল করানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর করায় ভোগান্তিতে পড়ছেনে তারা। এভাবে গণহারে ফেল মেনে নেয়া যায় না। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সিজিপিএ ২.০০ এর কম পেলে ফেল হিসেবে ধরা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের এ তথ্য জানানো হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন। তারা অবিলম্বে এ সমস্যার সমাধান দাবি করেন।
তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার পর সেশনজট কমার পাশাপাশি শিক্ষার মান বাড়বে। তবে সে আশা পূরণ হয়নি। ফল প্রকাশে বাড়তি সময় নেওয়া হচ্ছে। এসময় অবিলম্বে দাবি মেনে না নেওয়া হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন তারা।
এদিকে বেলা ৪টা পর্যন্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাবি উপাচার্যের দেখা পাননি বলে জানা যায়।