পহেলা বৈশাখকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে ঢাবির চারুকলা

০৪ এপ্রিল ২০১৯, ১২:২৩ PM

© টিডিসি ফটো

পহেলা বৈশাখকে স্বাগত জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদে চলছে পুরোদমে প্রস্তুতি। বসন্তের রঙিলা পালকিতে চড়ে ইতোমধ্যে রওনা দিয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪১৬ বঙ্গাব্দ। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে স্বাগত জানাতে পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা। চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ শোভাযাত্রা বাঙালি সংস্কৃতিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও চারুকলা অনুষদ থেকে বের করা হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ত্রাণ’ কবিতার একটি লাইন, ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’।

পহেলা বৈশাখকে স্বাগত জানাতে ঢাবির চারুকলা অনুষদে
চলছে পুরোদমে প্রস্তুতি

১৯৮৯ সালে চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর এই আয়োজন বাংলা বর্ষবরণের অপরিহার্য উপাদান হয়ে উঠে। ১৯৯৬ সালে চারুকলার এই আনন্দ শোভাযাত্রাকে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামকরণ করা হয়। ২০১৬ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান-বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর ‘ইনটেনজিবল হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি পায় এ মঙ্গল শোভাযাত্রা।

চারুকলা অনুষদে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একপাশে একদল শিল্পী বাঁশ, বেত, কাঠ ইত্যাদি দিয়ে আকর্ষণীয়ভাবে তৈরি করছেন ঘোড়া, পরী, ছাগল, গাছ, মাছ, কাঠঠোকরাসহ আরও অনেক বিশাল বিশাল নান্দনিক শিল্পকর্ম।

ইনজাল হোসেন নামে একজন শিল্পী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা এখন এখানে ছয় জন কাজ করছি। কয়েকদিন পর আরও কয়েকজন যোগ দেবেন আমাদের সাথে। আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা কাজ শেষ করতে পারবো।’

এর পাশেই একদল শিক্ষার্থী রাজা-রাণীর মুখোশ তৈরি করছিলেন। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছরের মতো এবছরও চারুকলা অনুষদে মহা-ধুমধামের সঙ্গে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হবে। রাজা-রাণীর মুখোশগুলো সবার সামনে থাকবে বলে জানান তারা।

চারুকলা অনুষদে প্রবেশ পথের বাম পাশে জলরঙে ছবি আঁকছিলেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গ্রামবাংলার নৈসর্গিক দৃশ্যকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলছিলেন তারা।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাবির চারুকলা অনুষদে
বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম বিক্রি করা হচ্ছে

ইক্ষু নামের একজন শিক্ষার্থী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, একেকটা স্কেচ একেক দাম। ছবির গুণগত-মানের উপর ভিত্তি করে একটা দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।

এর পাশেই ছোট্ট একটি স্টলে বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্মের পসরা সাজিয়ে বসেছেন আরেক শিক্ষার্থী ঊর্মি। তিনি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘শিল্পকর্ম বিক্রির টাকা দিয়ে আমরা মঙ্গল শোভাযাত্রার খরচ বহন করি।’ শিল্পকর্মগুলো কোনটা কত দাম জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাজা-রাণী পুতুল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পেঁচার মুখোশ এক থেকে দেড় হাজার টাকা, বড় সরার দাম ৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা, ছোট সরা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, পাখি ২০০ টাকা।

বিক্রি কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুচরা বিক্রি হচ্ছে বেশি। এখনো দর্শনার্থীর ভিড় খুব কম।’

আগামী ১৪ই এপ্রিল উদযাপিত হতে যাচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। এদিন সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে বের করা হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। পহেলা বৈশাখের মূল অনুষ্ঠানটি হবে রমনার বটমূলে। সেখানে সারাদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উপাচার্য বাসভবন ঘেরাও করল সিকৃবি শি…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
স্কলারশিপে স্নাতকোত্তর-পিএইচডির সুযোগ জাপানে, করুন আবেদন
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
২৭ লাখ টাকায় নির্মিত টয়লেট, ব্যবহার করা যায়নি এক দিনও
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
মঞ্চে ফিরছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, নতুন প্রযোজনায় তেজগাঁও কলেজ …
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রামে চোরাই স্মার্টফোনসহ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে বিভিন্ন পদে চাকরি, আবেদন ১০ সেপ্ট…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬