’আমরা উন্নয়ন করছি, কিন্তু সেটি টেকসই উন্নয়ন হচ্ছে না। কোনদিনই সাসটেইনেবল ডেভেলপ হবে না, যতদিন না পর্যন্ত সমাজকে মাদকমুক্ত করতে না পারবো।” সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি (ছাত্র-শিক্ষক) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।
‘বাংলাদেশে তরুণ সমাজ ও মাদকাসক্তি: বর্তমান পরিস্থিতি’ শিরোনামে ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শদান দফতর এবং মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শদান দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মেহজাবীন হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন মানসে’র সভাপতি অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, উন্নয়ন, দুর্নীতি, মাদক এবং ধ্বংস একই সূত্রে গাথা। একটা আরেকটার সাথে কো-রিলেটেড। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে অনুরোধ করেছিলাম মাদক ব্যাবসা করে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের নাম দিতে। তারা ৩০০ জনের নাম দিয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি প্রায় সবগুলোর ঠিকানাই ছিল ভুয়া। পরবর্তীতে তারা আবার তালিকা দেয়। পরে আমরা একজন জনপ্রতিনিধিকে ধরেছি। তিনি এখন জামিনে আছেন, জামিনেই থাকুন। এছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জনের জন্য ইতোমধ্যে ১২ জন গডফাদারকেও জেরা করেছি।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, দেশে কোন অন্যায়ের প্রতিবাদের জন্য শেষ আশ্রয়স্থল হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এখানের শিক্ষার্থীরা যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে তখন শিহরিত হই। আবার তাদের কেউ যখন মাদকের সাথে জড়ায় এমন কথা শুনি তখন খুব ব্যাথিত করে।
অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী তাঁর মূল প্রবন্ধে বলেন, দেশে বর্তমানে মোট মাদকাসক্তের পরিমাণ ৭৫ লাখ। এরমধ্যে ৮০ ভাগই যুবক, ৪৩ ভাগ বেকার, ৪০ ভাগ অশিক্ষিত, ৪৮ ভাগ মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষিত। আর মাদকগ্রহণকারীদের ৯৮ ভাগই ধূমপায়ী, ৫৭ ভাগ অবৈধ যৌন অপরাধী। এদের ৭ভাগ ইনজেকশনের মাধ্যমে এইচ আইভি আক্রান্ত। এবং ২০২০ সালে মাদকাসক্তের পরিমাণ এক কোটি ছাড়াবে।
নারী মাদকাসক্তের পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে প্রতি ১০ জন মাদকাসক্তের ৩ জনই নারী। তাদের ৪৩ ভাগই ইয়াবা আসক্ত। ইয়াবা সেবন তাদেরকে আত্মহত্যার দিকে নিয়ে যায়। যা এখন সমাজে অহরহ ঘটছে। মাদক থেকেই জঙ্গী এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়ন হয়। দুর্নীতির মূল কারণও হচ্ছে এই মাদক। তিনি আরো বলেন, দেশে দেড় লক্ষ মাদককারবারীদের মধ্যে ২৭ হাজার ৩০০ জনই নারী। অর্থাৎ মাদক কারবারীদের ১৭ ভাগই নারী। সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেয়াকেও স্বাগত জানান তিনি।