ঢাবিতে সেনাবাহিনী সদস্যদের বিচার দাবিতে অনশন

৩০ মার্চ ২০১৯, ০৩:৫৪ PM
অনশনকারীদের সাথে ঢাবির ভিপি নুর

অনশনকারীদের সাথে ঢাবির ভিপি নুর © সংগৃহীত

ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট মমতাজের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের ওপর হামলা ও ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে তিন দফা দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন করছেন ঢাবির জিয়া হলের দুই শিক্ষার্থী আফিফ ও শাহরিয়ার। হামলার সাথে জড়িত সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিচার ও বহিষ্কার চাই তারা৷

শনিবার সকাল নয়টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন। অনশনকারীরা হচ্ছেন— দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শাহরিয়ার বাবু এবং ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আফিফুল ইসলাম আফিফ। তাদের তিন দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্য যে হিংস্রভাবে শারীরিক নির্যাতন করেছে এর সুষ্ঠু বিচার; নিরাপদে রেল যাতায়াত নিশ্চিত করা যাতে জনসাধারণ রেল যাতায়াতে আর ভোগান্তি শিকার না হয় এবং হামলা শিকারদের মোবাইল, মানিব্যাগসহ যা কিছু হারিয়েছে তার ক্ষতিপূরণ।

অনশনকারী শিক্ষার্থী শাহরিয়ার বাবু দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা সরকারকে জানাতে চাই যে, সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্য আমাদের ওপর এবং সাধারণ জনতার ওপর যেভাবে নির্যাতন করেছে তার যেন সুষ্টু বিচার হয়। তাদের কাছে লিখিত কোনো আশ্বাস না আসা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

অনশনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, গত ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার রাতে মেইল ট্রেনে করে চট্টগ্রাম ভ্রমণে যাচ্ছিলেন তারা সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী। এসময় কমলাপুর রেল স্টেশনে কয়েকজন সেনা সদস্য এসে ট্রেনের বগি থেকে সবাইকে নেমে যেতে বলেন এবং বলেন যে বগিটা আগে থেকেই তারা ভাড়া করে রেখেছেন। এতে ঢাবির ওই পাঁচ শিক্ষার্থী সাধারণ যাত্রীদের সাথে নিয়ে প্রতিবাদ জানায় এবং সেনা সদস্যদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ট্রেন যখন বিমান বন্দর এলাকায় এসে থামে তখন ওখানে আরো কয়েকজন সেনাসদস্য উঠে সাধারণ যাত্রীদের জোর করে নামিয়ে দেয় এবং সেই পাঁচ ঢাবি শিক্ষার্থী সহ কয়েকজনকে পিটিয়ে ট্রেন থেকে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন অনশনকারী আফিফুল ইসলাম আফিফ।

পরে তারা এ ঘটনার বিচার চেয়ে সাধারণ যাত্রীদের সাথে নিয়ে গভীর রাতে সেখানেই আমরণ অনশন শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীসহ অন্যান্য নেতারা। ডাকসু নেতাদের আশ্বাসে অনশন স্থগিত রাখেন তারা এবং ২৪ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্ত সেনা সদস্যদের বিচার না হলে পুনরায় অনশনে বসবেন বলে জানান তারা। এই প্রেক্ষিতে শনিবার সকাল ৯টা থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে পুনরায় আমরণ অনশন শুরু করেন তারা। 

এদিকে শনিবার দুপুরে অনশনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুলহক নুর ও  এজিএস সাদ্দাম হোসেনসহ অন্যরা। একইসঙ্গে এই হামলায় জড়িত সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিচার দাবি করেন তারা।

ভিপি নুর বলেন, আমার ভাইদের উপর যারা হামলা চালিয়েছে অতিদ্রুত সেনাবাহিনীর সেই বিপথগামী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। আমরা ঢাবি প্রশাসনের সাথে ইতোমধ্যে কথা বলেছি। তারা বিষয়টি অবগত আছে। আমি ডাকসুর ভিপি হিসেবে আমার ভাই-বোনদের দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করছি এবং তাদের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, যদি প্রশাসন তাদের ন্যায় বিচার করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপযুক্ত জবাব দিবো। আমরা সবাইকে বলতে চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। এ অপকর্মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এখানে যারা অনশন করছে তাদের ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

এসময় ভিপি নুর হুমকি দিয়ে বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা নেয়া না হয়, তাহলে আমিও অনশনকারীদের সাথে যোগদান করবো। আর আমি অনশনে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও শিক্ষার্থী আমার সাথে অনশনে যাবে। তখন একটি ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হবে। আমি চাই না এই রকম কিছু হোক।

 

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় শোক জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে উপাচার্য বাসভবন অভিমুখে সিকৃবি শিক্…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
স্কলারশিপে স্নাতকোত্তর-পিএইচডির সুযোগ জাপানে, করুন আবেদন
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
২৭ লাখ টাকায় নির্মিত টয়লেট, ব্যবহার করা যায়নি এক দিনও
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
মঞ্চে ফিরছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, নতুন প্রযোজনায় তেজগাঁও কলেজ …
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রামে চোরাই স্মার্টফোনসহ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬