‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গৌরবময় ঐতিহ্যের মধ্যে একটি হলো ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া। এখানে ১০ টাকায় একটি চা, একটি সিঙ্গাড়া এবং একটি চমুচা পাওয়া যায়।’ বিশ্ববিদ্যালয়ে খাবারের কম দাম নিয়ে ক’দিন আগে এমন বক্তৃতা রেখে আলোচনায় এসেছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। সে সময় তিনি এটাও বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের এমন কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই, যেখানে ১০ টাকায় এত খাবার পাওয়া যায়।’
কিন্তু সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়েই এবার এক কাপ চা ১০ টাকায় বিক্রির খবর পাওয়া গেলো। তা-ও আবার ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার পাশে। সামাজিক বিজ্ঞান চত্বরের ‘কফি হাট’-এ। শুধু চা নয়, এখানকার অন্যান্য খাবারের দামও যেন গুলশান-বনানীর অভিজাত হোটেলগুলোর সদৃশ।
দোকানটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে এক কাপ চায়ের দাম ১০ টাকা; যেখানে শুধু ক্যাম্পাসের অন্যসব দোকানে নয়, গোটা রাজধানীর স্বাভাবিক দোকানগুলোতেই ৫ টাকা। শুধু চা নয়, দোকানটিতে একটি চিকেনের দাম ৬৫ টাকা, পাস্তা ১০০-১৫০ টাকা, পিৎজা ১৬০-৩০০ টাকা, চিকেন বার্গার ১৫০ টাকা এবং লাচ্চির দাম ৪০ টাকা রাখা হচ্ছে। এছাড়াও এখানে এমন বেশ কয়েকটি মেন্যু রয়েছে; যা অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ ছাত্রদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
দোকানে উপস্থিতি এক শিক্ষার্থী জানালেন, এখানে যারা খাবার খেতে আসে; তাদের বড় একটি অংশ বহিরাগত। মূলত তাদের জন্য চলে এই কফি হাটের ব্যবসা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও কম-বেশি আসে বলে জানান তিনি। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী ফারহিন ন্যান্সি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, এই দোকানটি আমাদের ফ্যাকাল্টির সামনে হওয়ায় আসা হয়। তবে এখানকার দাম আমাদের অনুকূলে নয়। বিষয়টি দ্রুত সুরাহা হওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।
খাবারের দাম বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে দোকান মালিক মিল্লাত হোসেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, দোকানটি ৬০ লাখ টাকায় ভাড়া নিয়েছি। এর মধ্যে ২০ লাখ দিয়েছি এবং আরো ৪০ লাখ দিতে হবে। যদিও এই ভাড়া কাগজে কলমে না বলে তিনি জানান। এছাড়াও প্রতিমাসে ৫১ হাজার ৭৫০ টাকা ভাড়া দিতে হয় তাদের। বিদুৎ বিল এবং গ্যাস বিল তো রয়েছেই। তিনি আরো বলেন, ‘প্রশাসন যদি বিদুৎ বিল এবং গ্যাস বিল দিয়ে দিত, তাহলে খাবারের দাম অন্তত ২০% কমিয়ে দিতাম।’
ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হাসান বলেন, এ ব্যাপারে ভিপি ও দোকানের মালিকের সাথে সাধারণ ছাত্রদের কথা বলা হয়েছে। ভিপি জানিয়েছেন, তিনি ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. সাদেকা হালিম ব্যাপারটি দেখবেন। আশা করা হচ্ছে, দুয়েক দিনের মধ্যেই সবাই ফলাফল পেতে পারে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভিপি নুরুল হক নুরসহ ডাকসু নেতারা। তারা দোকানটির দাম কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ডিনকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে নুরুল হক নুর দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, খাবারের দাম নিয়ে আমরা সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের সঙ্গে দেখা করেছি। তবে তিনি আমাদের বলেছেন- কফি হাটের বিষয়টি দেখার জন্য উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি রয়েছে। তারাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এখন যেহেতু ডাকসু হয়েছে; তাই দুই-একদিনের মধ্যে সবাই বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।